নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ-৩ #শ্রমবাজার

ইতালিতে ডিক্রেতো ফ্লুসি নীতি সংস্কার; প্রবাসীদের বিক্ষোভ

ইতালির বহুল আলোচিত ডিক্রেতো ফ্লুসি নীতিতে হঠাৎ আমূল পরিবর্তন ও নজিরবিহীন কড়াকড়ির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন প্রবাসী শ্রমিকেরা। দেশটিতে সিজনাল ও নন-সিজনাল ক্যাটাগরিতে স্পনসরশিপের জটিলতা দূর করতে পে-রোল ব্যবস্থা ডিজিটাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তা বড় ধরনের বিপত্তি তৈরি করেছে। ইতালি সীমান্ত পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে বৈধ আবেদনকারীদের ফাইল যাচাই-বাছাইয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেওয়ায় প্রবাসীদের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে।

ইতালি সরকার ডিক্রেতো ফ্লুসি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফেরানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা কাগজে-কলমে বেশ ইতিবাচক মনে হয়েছিল। নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক উভয়ের সুবিধার্থে পুরানো কাগজপত্র সংক্রান্ত ঝামেলা এড়াতে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। নতুন প্রযুক্তির সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে না পারা এবং সার্ভারের নানা জটিলতায় শুরুতেই অনেক নিয়োগকর্তা ভোগান্তিতে পড়েন। ফলে সুবিধা পাওয়ার বদলে প্রক্রিয়াকরণের গতি অনেকটাই থমকে গেছে।

সবচেয়ে বড় বিপত্তি দেখা দিয়েছে ইতালির সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত নজরদারির কারণে। দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর দালাল চক্র জাল চুক্তিপত্র বানিয়ে লোক আনার যে অবৈধ কারখানা খুলে বসেছিল, তা বন্ধ করতেই পুলিশ মাঠে নামে।

কিন্তু এই কঠোর অভিযানের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ ও বৈধ আবেদনকারীদের ওপর। সীমান্ত পুলিশ প্রতিটি ফাইল সূক্ষ্মভাবে যাচাই করার অজুহাতে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখছে। ফলে যারা প্রকৃত কাজের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশের বা বৈধ হওয়ার স্বপ্নে ছিলেন, তারা পড়েছে চরম বিপাকে।

নিয়মকানুনের এই গোলকধাঁধায় পড়ে হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ফাইল ছাড়করণে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ভিসা প্রাপ্তির ব্যাকলগ বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন শহরে প্রবাসীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ভূয়া চুক্তি ঠেকানোর নামে বৈধ আবেদনকারীদের কেন ভোগান্তির শিকার হতে হবে? তারা দ্রুত ফাইল ভেরিফিকেশনের কাজ সম্পন্ন করা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও মানবিক করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

ইতালির কৃষি, পর্যটন এবং শিল্প খাতে বিদেশী শ্রমিকদের চাহিদা অত্যন্ত ব্যাপক। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ইতালির নিজস্ব অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। ব্যবসায়ীরাও এখন দ্রুত শ্রমিক পাওয়ার জন্য নীতি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত পুলিশের নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না দিলে এই জটিলতা সহজে কাটবে না। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি ও আন্দোলনের মুখে ইতালি সরকার নীতিতে কোনো শিথিলতা আনে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *