নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

এইচ-১বি লটারি এখন ‘ভাগ্য’ নয়, ‘বেতন ও দক্ষতার’ প্রতিযোগিতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) এইচ-১বি ভিসা লটারি প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘদিনের চিহ্নিত “একাধিক আবেদন দিয়ে সুযোগ বাড়ানোর” অনৈতিক প্রবণতা বন্ধে এবং উচ্চ দক্ষ ও উচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে ইউএসসিআইএস এখন “বেনিফিশিয়ারি-সেন্ট্রিক” ভিত্তিতে একটি ওয়েটেড সিলেকশন সিস্টেম কার্যকর করেছে। নতুন নিয়মে একজন ব্যক্তির পাসপোর্টের বিপরীতে যতগুলো আবেদনই জমা হোক, লটারিতে তার নাম কেবল একবারই গণনা হবে; তবে প্রস্তাবিত বেতনের স্তর অনুযায়ী সেই একক এন্ট্রি একাধিক “চান্স” হিসেবে গণ্য হবে।

এই নিয়মটি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয় এবং ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এটি ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি ক্যাপ নিবন্ধন মৌসুম থেকে প্রযোজ্য হবে । এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিগ্রি সম্পন্ন করা বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে যারা এন্ট্রি-লেভেল চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন, তারা তুলনামূলকভাবে কম সুবিধা পাবেন; অন্যদিকে যারা উচ্চ বেতনের পদে সুযোগ পাবেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

পূর্বে আবেদনের সংখ্যা নির্ধারিত কোটার (৬৫,০০০ সাধারণ + ২০,০০০ মার্কিন অ্যাডভান্সড ডিগ্রি) চেয়ে বেশি হতো, তখন ইউএসসিআইএস একটি সম-সম্ভাব্যতার র্যান্ডম লটারি পরিচালনা করতো। নতুন নিয়মে লটারি এখনো অনুষ্ঠিত হবে, তবে প্রতিটি বেনিফিশিয়ারির এন্ট্রি সংখ্যা নির্ভর করবে তার প্রস্তাবিত চাকরির বেতন মার্কিন শ্রম বিভাগের নির্ধারিত prevailing wage স্তরের (লেভেল I থেকে IV) সাথে কতটা মিলছে তার উপর।

ইউএসসিআইএস-এর আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মে লেভেল IV-এর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬১%, লেভেল III-এর প্রায় ৪৬%, লেভেল II-এর প্রায় ৩০.৬%, কিন্তু লেভেল I-এর সম্ভাবনা মাত্র ১৫%-এর কিছু বেশি, যা আগের র্যান্ডম লটারির গড় প্রায় ৩০%-এর তুলনায় প্রায় অর্ধেক ।

মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো তথাকথিত “ভুয়া কনসালট্যান্সি” বা একাধিক নিয়োগকর্তার নামে একটি ব্যক্তির জন্য বিপুল সংখ্যক কম বেতনের আবেদন জমা দেওয়ার মাধ্যমে লটারিতে সুবিধা নেওয়ার পদ্ধতি দমন করা। যেহেতু এখন একাধিক আবেদন একটি এন্ট্রিতে একীভূত হয়ে যায় এবং বেতন স্তরই নির্ধারক, তাই কম বেতনে “ভিড়” বানিয়ে সুযোগ নেওয়ার জায়গা সংকুচিত হয়েছে ।

তবে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব প্রভাব দ্বিমুখী। যারা কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্যান্য উচ্চ বেতনের ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং যারা বড় কোম্পানি বা উচ্চ বেতনের পদে চাকরি পেয়েছেন, তারা নতুন নিয়মে আরও স্পষ্ট সুবিধা পাবেন। বিপরীতে, যারা মানবিক, কিছু স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক পদ বা এন্ট্রি-লেভেল চাকরিতে আছেন এবং বেতন লেভেল I-এ পড়ছে, তাদের জন্য এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার কঠিনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *