রেকর্ড কর্মী বিদেশে; ৭ মাসে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়ে ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার

চলতি বছরের গত সাত মাসে দেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ৪ লাখ ৩২ হাজারের বেশি কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। এই সময়ে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার বেশি। বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকটের মুখে প্রবাসী আয়ের এই জোয়ার দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক চিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়, বৈশ্বিক নানামুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং নানা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা এবং দেশে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সঠিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব এই চালচিত্রে সরাসরি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং হুন্ডি বন্ধে প্রশাসনিক কড়াকড়ি এই সুফল এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। দেশের রিজার্ভ ধরে রাখতে ও ডলার সংকট সামলাতে প্রবাসী আয়ের এমন ঊর্ধ্বগতি দারুণ ভূমিকা পালন করবে।
পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন নতুন শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করছে সরকার। দক্ষ কর্মী তৈরিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতে, শুধু কর্মী পাঠালেই হবে না, তাঁদের অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রবাসীদের কল্যাণ, বিমানবন্দর হয়রানি বন্ধ এবং বিদেশে কর্মরত কর্মীদের নানা আইনি সহায়তা দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদক্ষ কর্মীর চেয়ে দক্ষ কর্মী বেশি পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা সম্ভব। এই লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোর মান উন্নয়ন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বজুড়ে এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকনিক্যাল কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। চিরাচরিত কনস্ট্রাকশন বা সাধারণ শ্রমিকের পাশাপাশি নার্স, টেকনিশিয়ান, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং কেয়ারগিভার হিসেবে কর্মী পাঠানোর ওপর নতুন কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আরও গতিশীল এবং জবাবদিহিমূলক করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে বৈঠকে।











