সুইডেন ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে নতুন নিয়ম, বিপাকে প্রবাসীরা

বিদেশি কর্মীদের সুইডেন ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র নবায়নের ক্ষেত্রে মাসিক ন্যূনতম আয়ের সীমা বেশ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। স্থানীয় কর্মীদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সুইডিশ অভিবাসন বোর্ড বা মাইগ্রেশন্সভারকেট (Migrationsverket) সম্প্রতি এই কঠোর নিয়ম কার্যকর করেছে।
ইউরোপের অন্যতম উন্নত দেশ সুইডেন বরাবরই অভিবাসীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান প্রশাসন শ্রমবাজারের মান ধরে রাখতে এবং স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে অভিবাসন নীতিতে বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনছে। নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমানো। আগে তুলনামূলক কম আয়েও সহজেই কাজের অনুমতিপত্র পাওয়া যেত, যা এখনকার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন নীতিমালার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কম বেতনের চাকরিতে যুক্ত থাকা বিদেশি কর্মীরা। রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্লিনিং কিংবা ফুড ডেলিভারির মতো সার্ভিস সেক্টরে কর্মরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি সরাসরি এই সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। হালনাগাদ করা বেতন কাঠামো অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম আয় করা কর্মীদের আগামীতে রেসিডেন্সি নবায়নের আবেদন বাতিল হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে যারা সুইডেনে কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিসা হারিয়ে দেশে ফেরার অথবা অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে নতুন করে পাড়ি জমানোর চিন্তায় দিন পার করছেন সার্ভিস সেক্টরের অসংখ্য বাংলাদেশি কর্মী। আয়ের শর্ত পূরণ করতে না পারলে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার হারাবেন অনেকেই।
ভিসা নবায়নের এই নতুন শর্ত নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রবাসীরা দ্রুত বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছেন। কম বেতনের কাজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে তারা নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে জোরালো মনোযোগ দিচ্ছেন। লক্ষ্য এখন উচ্চ দক্ষতার পেশায় যুক্ত হয়ে ন্যূনতম বেতন সীমার আইনি শর্ত পূরণ করা।
তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ডেটা সায়েন্স ও প্রকৌশল খাতে কাজের সুযোগ পেতে বিপুল সংখ্যক তরুণ প্রবাসী নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেছেন। সুইডিশ ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলার সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে তারা বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ও টেকনিক্যাল কোর্সে ভর্তি হচ্ছেন। সুইডেনের শ্রমবাজারে দক্ষ আইটি কর্মী ও প্রকৌশলীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব উচ্চ দক্ষতার পেশায় বেতনও অনেক বেশি। ফলে যারা নিজেদের এই নতুন ধারায় মানিয়ে নিতে পারবেন, তাদের জন্য রেসিডেন্সি ধরে রাখা অনেকটাই সহজ হবে।











