প্রবাসীদের পারিবারিক সুরক্ষায় চালু হচ্ছে ‘ডিজিটাল ফ্যামিলি কোর্ট ও কনস্যুলার মিডিয়েশন’

প্রবাসীদের পারিবারিক সুরক্ষায় ডিজিটাল ফ্যামিলি কোর্ট ও কনস্যুলার মিডিয়েশন সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যা প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের আইনি জটিলতা নিরসনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিদেশে বসেই দূতাবাসের ডিজিটাইজড পোর্টালে পারিবারিক আইনি বিরোধ, উত্তরাধিকার কিংবা অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এর মাধ্যমে। তবে আইনি প্রক্রিয়া না মেনে তথ্য গোপন করলে দেশে ফেরার পর সরাসরি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
প্রবাস জীবন মানেই নানা প্রতিকূলতা আর প্রাত্যহিক সংগ্রামের গল্প। এর মধ্যে দেশের বাড়িতে থাকা সম্পত্তি, উত্তরাধিকার বা পারিবারিক বিরোধ নিয়ে প্রবাসীদের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অতীতে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য জরুরি ছুটি নিয়ে দেশে ছুটে আসতে হতো অথবা আইনি দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হতো। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে প্রবাসীরা এখন সরাসরি দূতাবাস বা মিশনের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আইনি সহায়তার আবেদন করতে পারবেন।
কনস্যুলার মিডিয়েশনের মাধ্যমে দুই পক্ষের সমঝোতা বা আইনি মারপ্যাঁচ অনলাইনেই সুরাহা করার সুযোগ থাকায় সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে। প্রবাসীদের আইনি অধিকার সুরক্ষায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তিগত এই সুবিধা যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় প্রবাসে থেকে কেউ কেউ দেশের পারিবারিক তথ্য গোপন করে বা ভুল কাগজ দেখিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেন।
যদি কোনো প্রবাসী সঠিক আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করে ফ্যামিলি কোর্টের কার্যক্রমকে বিভ্রান্ত করেন, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যখনই দেশে ফিরবেন, সরাসরি ফৌজদারি আইনি মামলার মুখোমুখি হতে পারেন। তাই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ণ সত্যতা ও আইনি শিষ্টাচার বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের আইনি সহায়তার পরিধি বাড়াতে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব বা পারিবারিক বিরোধের কারণে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। দূতাবাসের এই ডিজিটাল মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক পারিবারিক বিবাদ আদালতের বারান্দা পর্যন্ত গড়ায় না থেকেই মীমাংসা করা সম্ভব।
তবে সেবাটি গ্রহণের সময় প্রবাসীদের প্রযুক্তিগত সচেতনতা এবং সঠিক নথিপত্র উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। দূতাবাসগুলোও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে যাতে কেউ না বুঝে ভুল পদক্ষেপ না নেন।











