বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ: সঞ্চয় কমছে প্রবাসীদের

বাংলাদেশ থেকে উন্নত বিশ্বে পাড়ি জমানো লাখ লাখ প্রবাসী এখন বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ ও আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার খরচে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে খাদ্যসামগ্রীর অনিয়ন্ত্রিত দরবৃদ্ধি এবং অ্যাপার্টমেন্টের চড়া ভাড়ার কারণে মাসশেষে প্রবাসীদের সঞ্চয়ের খাত একপ্রকার শূন্যে ঠেকছে।
উপার্জনের বড় অংশই মৌলিক চাহিদা মেটাতে চলে যাওয়ায় দেশে পরিবারকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই কঠিন আর্থিক পরিস্থিতি সামলাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন শেয়ারিং রুম ও যৌথ জীবনযাত্রার নতুন কৌশলের দিকে ঝুঁকছেন।
বহির্বিশ্বের চকচকে জীবনের পেছনে যে কঠিন লড়াই থাকে, তা এখন আরও জটিল করে তুলেছে অর্থনৈতিক মন্দা। গত কয়েক বছরে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং ইউটিলিটি বিলের উল্লম্ফন প্রবাসীদের দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি ওলটপালট করে দিয়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল মেটাতে গিয়েই সিংহভাগ উপার্জন শেষ হয়। এর ওপর বাসা ভাড়া প্রতি বছর নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় এককভাবে একটি ঘর বা ফ্ল্যাট পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আর্থিক এই চরম চাপ থেকে বাঁচার পথ হিসেবে প্রবাসীরা এখন জীবনযাত্রার ধরনে বড় ধরণের পরিবর্তন আনছেন। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ যেভাবে মানুষের পকেটে টান ফেলেছে, তাতে একা থাকার বিলাসবহুল চিন্তা বাদ দিয়ে যৌথভাবে থাকার বিকল্প দেখছেন না অনেকেই।
একই কক্ষে দুজন বা একটি ফ্ল্যাটে কয়েকজন মিলে থাকার ফলে বাসা ভাড়া ও পরিষেবা বিল কয়েকভাগে ভাগ হয়ে যায়। এছাড়া কয়েকজন মিলে একসাথে বাজার করা ও রান্নাবান্নার অভ্যাস গড়ে তোলায় খাদ্য খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে।
ইউরোপ-আমেরিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো বিকল্প নেই। প্রবাসীদের আয়ের বড় অংশ যদি প্রবাসেই ব্যয় হয়ে যায়, তবে বাংলাদেশে তাদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে।
তবে সংকটময় এই মুহূর্তে বুদ্ধিভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং যৌথ জীবনের মাধ্যমে প্রবাসীরা যেভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এর এই তীব্র ধাক্কা সামলে উঠে সঞ্চয়ের সঠিক পথ খুঁজে নেওয়াই এখন প্রবাসীদের প্রধান লক্ষ্য।











