নভেম্বর ৯, ২০২৬
#নারী প্রবাসী

মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের উদ্যোগ: যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ই-কন্ট্রাক্ট ও ট্র্যাকিং

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার বাংলাদেশির মধ্যে নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ডিজিটাল চুক্তিপত্র বা ই-কন্ট্রাক্ট এবং স্মার্ট ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিয়োগকর্তার নির্যাতন, সময়মতো বেতন না দেওয়া কিংবা কর্মস্থলে যোগাযোগের অভাব সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এই নিরাপদ ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে কাজ করছে।

প্রথাগত কাগজে-কলমে চুক্তির ক্ষেত্রে অনেক সময় দালাল চক্র প্রবাসীদের না জানিয়ে শর্ত পরিবর্তন করে ফেলত। ই-কন্ট্রাক্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন ভিসা ইস্যুর আগেই নিয়োগকর্তার দায়িত্ব, বেতন ও কর্মঘণ্টার তথ্য ডিজিটাল পোর্টালে নিবন্ধিত থাকে। এতে করে কোনো নিয়োগকর্তা চাইলে একতরফাভাবে চুক্তি পরিবর্তন বা বেতন কমানোর সুযোগ পান না। এই স্বচ্ছ ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবাসে নারী গৃহকর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় বিদেশ যাওয়ার আগেই প্রবাসী নারীদের ফোনে একটি বিশেষ ট্র্যাকিং ও জরুরি সহায়তা অ্যাপ ইনস্টল করে দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগকর্তার বাসায় অবস্থানকালে কোনো ধরনের বিপদের সম্মুখীন হলে এক ক্লিকেই দূতাবাস ও বিএমইটির কাছে ইমার্জেন্সি সংকেত পৌঁছে যাবে। অ্যাপটিতে ভয়েস মেসেজ পাঠানো এবং নিজের অবস্থান শেয়ার করার সুনির্দিষ্ট অপশন রাখা হয়েছে, যা প্রবাসে কোনো গৃহকর্মী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দ্রুত উদ্ধারে সাহায্য করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকাজে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণত বহির্বিশ্ব থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন পরিবেশে কাজ করে থাকেন। যে কারণে যেকোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে তারা তাৎক্ষণিক আইনি সহায়তা পান না। ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও অনলাইন নজরদারির মাধ্যমে অভিবাসন দপ্তরগুলো সরাসরি নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সৌদি আরব বা আমিরাতের মতো দেশগুলোতেও যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সরাসরি স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশ মিশন সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারছে, যা নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে পৃথক ডিজিটাল সেল গঠন করা হয়েছে, যারা এই ই-কন্ট্রাক্ট ডাটাবেজ সার্বক্ষণিক তদারকি করবে। প্রতিটি নারী শ্রমিকের নিয়োগকর্তার তথ্য, বাসার ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর সেখানে সংরক্ষিত থাকবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর অনলাইন ব্যাংকিং চ্যানেলে বেতন জমা হচ্ছে কিনা তা অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এতে করে বছরের পর বছর বেতন না দিয়ে আটকে রাখার পুরোনো প্রবণতা বন্ধ হবে।

প্রযুক্তিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রবাসগামী নারীদের ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে কারিগরি কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভাষা শিক্ষা, স্মার্টফোন ব্যবহার এবং জরুরি হেল্পলাইন নম্বর মনে রাখার কৌশলগুলো এখন মূল ট্রেনিং কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের উদ্যোগ: যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ই-কন্ট্রাক্ট ও ট্র্যাকিং

দক্ষিণ কোরিয়া ইপিএস লটারি ও স্কিল ভিসার

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *