সেনজেনের স্বপ্ন ও বাস্তবতা: ইউরোপে বাংলাদেশিদের নতুন দিগন্ত

‘সেনজেন’—ইউরোপের এই ২৬টি (বর্তমানে ২৭টি) দেশের সীমান্তহীন অঞ্চলটি বাংলাদেশি তরুণদের কাছে এক স্বপ্নের নাম। উন্নত জীবন, সামাজিক নিরাপত্তা আর উচ্চ বেতনের আশায় প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি এই অঞ্চলে পাড়ি জমান। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের অবস্থান এখন আর কেবল দয়া বা আশ্রয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং মেধা ও শ্রম দিয়ে তারা সেখানে নিজেদের অপরিহার্য করে তুলছেন।
পর্তুগাল ও ইতালিতে বৈধকরণের জোয়ার ইউরোপের মধ্যে পর্তুগাল ও ইতালি বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। পর্তুগালের সহজ অভিবাসন নীতির কারণে গত কয়েক বছরে কয়েক লাখ বাংলাদেশি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (TRC) পেয়েছেন। কৃষি কাজ থেকে শুরু করে আইটি সেক্টর—সবখানেই বাংলাদেশিদের জয়জয়কার। অন্যদিকে, ইতালি সরকার ২০২৬-২৮ মেয়াদে প্রায় ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। রোম বা মিলানের রাস্তায় এখন সারি সারি বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চোখে পড়ে।
ডিজিটাল সেনজেন ও নতুন নিয়ম ২০২৬ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেনজেন ভিসাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে এখন আর পাসপোর্টে স্টিকারের ঝামেলা নেই; বরং বারকোডযুক্ত ই-ভিসার মাধ্যমে ভ্রমণ সহজ হয়েছে। তবে ইইউর নতুন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, অদক্ষ কর্মীদের জন্য নিয়ম কিছুটা কড়া করা হয়েছে। বিশেষ করে ভাষা দক্ষতা এবং পেশাদার সার্টিফিকেটের ওপর এখন বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
সাফল্যের পেছনের সংগ্রাম সেনজেনের চাকচিক্যের পেছনে রয়েছে তীব্র শীত আর একাকীত্বের লড়াই। ফ্রান্সে বা জার্মানিতে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে দেশে টাকা পাঠান। অবৈধভাবে লিবিয়া বা বলকান রুট দিয়ে আসা অভিবাসীদের জীবন এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাগরে নৌকাডুবি বা বনের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটিয়ে যারা সেনজেন পৌঁছান, তাদের অনেকেই মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যান। তা সত্ত্বেও, সেনজেনভুক্ত দেশগুলো থেকে আসা উচ্চ হারের রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে।











