নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ নন সেনজেন #দেশভিত্তিক নিউজ

বলকান থেকে রোমানিয়া: নন-সেনজেন ইউরোপে বাংলাদেশিদের কর্মযজ্ঞ

ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে প্রবেশের ফটক হিসেবে পরিচিত নন-সেনজেন বা বলকান দেশগুলো এখন বাংলাদেশিদের জন্য নতুন শ্রমবাজারের মূল কেন্দ্র। রোমানিয়া, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এবং হাঙ্গেরির মতো দেশগুলোতে বর্তমানে হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। এক সময় যারা কেবল পশ্চিম ইউরোপের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, তারা এখন এই উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে কর্মসংস্থান খুঁজে নিচ্ছেন।

রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার শ্রম চাহিদা ইউরোপের স্থানীয় কর্মীরা পশ্চিমের দেশগুলোতে চলে যাওয়ায় রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়ায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বাংলাদেশ। নির্মাণ শিল্প, শিপইয়ার্ড এবং লজিস্টিক সেক্টরে বাংলাদেশিদের চাহিদা বাড়ছে। তবে একটি বড় সমস্যা হলো, অনেক বাংলাদেশি এই দেশগুলোকে কেবল ‘ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করেন। রোমানিয়া বা ক্রোয়েশিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক মাস পরেই তারা অবৈধভাবে জার্মানি বা ফ্রান্সে পালিয়ে যান। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং অনেক নিয়োগকর্তা বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

ভিসা জটিলতা ও দিল্লির দূতাবাস নন-সেনজেন দেশগুলোর অধিকাংশের দূতাবাস ঢাকায় নেই। ফলে ভিসার জন্য দিল্লির দূতাবাসে যেতে হয়, যা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। ২০২৬ সালের শুরুতে এই জটিলতা আরও বেড়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই দেশগুলোর ভিসা সেন্টার ঢাকায় চালু করা যায়, তবে বৈধ পথে ইউরোপে কর্মী পাঠানোর হার ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।

জীবনযাত্রার মান ও রেমিট্যান্স নন-সেনজেন দেশগুলোতে বেতনের হার পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় কিছুটা কম (গড়ে ৬০০-৯০০ ইউরো), কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেশ কম। ফলে শ্রমিকরা মাস শেষে একটি ভালো অংকের টাকা সঞ্চয় করতে পারেন। তবে এই দেশগুলোতে ভাষা শিক্ষা এক বড় চ্যালেঞ্জ। যারা স্থানীয় ভাষা রপ্ত করতে পারছেন, তারা দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ভালো অবস্থানে যাচ্ছেন।

বলকান থেকে রোমানিয়া: নন-সেনজেন ইউরোপে বাংলাদেশিদের কর্মযজ্ঞ

সেনজেনের স্বপ্ন ও বাস্তবতা: ইউরোপে বাংলাদেশিদের নতুন

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *