নভেম্বর ৯, ২০২৬
#উত্তর আমেরিকা #দেশভিত্তিক নিউজ

উত্তর আমেরিকায় লাল-সবুজ: আমেরিকা ও কানাডায় বাংলাদেশিদের সাফল্যের মুকুট

আটলান্টিকের ওপারে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবস্থান এখন ঈর্ষণীয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় বাংলাদেশিরা এখন আর কেবল ‘ইমিগ্র্যান্ট’ নন, তারা এখন মূলধারার রাজনীতি, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তির নীতিনির্ধারক। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ছাড়িয়েছে, যার সিংহভাগই বাস করেন নিউইয়র্কে।

আমেরিকার রাজনীতি ও কর্পোরেট জগত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সিনেট এবং সিটি কাউন্সিলে এখন বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতি। ‘লিটল বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত এলাকাগুলো এখন আমেরিকার সংস্কৃতির অংশ। সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্ট থেকে শুরু করে নাসার ল্যাবরেটরি—সবখানেই বাংলাদেশি মেধার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে ২০২৬ সালে মার্কিন সরকারের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভিসা কড়াকড়ি হয়েছে, যা নতুন অভিবাসীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

কানাডায় নতুন জীবন ও সুযোগ কানাডা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ। টরন্টো, মন্ট্রিয়ল এবং ক্যালগারিতে বাংলাদেশিদের শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কানাডার ‘এক্সপ্রেস এন্ট্রি’ এবং ‘পিএনপি’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে হাজার হাজার দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবী সপরিবারে সেখানে স্থায়ী হচ্ছেন। কানাডার মাল্টিকালচারালিজম বাংলাদেশিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখে জীবন যাপনে সহায়তা করছে। তবে বর্তমানে কানাডায় আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার উচ্চমূল্য নতুন আসা প্রবাসীদের কিছুটা হিমশিম খাওয়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের বড় গন্তব্য উত্তর আমেরিকা এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এক নম্বর পছন্দ। উচ্চশিক্ষার জন্য আসা হাজারো শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েশন শেষ করে সেখানকার বড় বড় কোম্পানিতে যোগ দিচ্ছেন। তাদের এই মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেন’ বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার হলেও, তারা যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এবং জ্ঞান দেশে পাঠাচ্ছেন, তা অতুলনীয়।

উত্তর আমেরিকার প্রবাসীরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’। তাদের হাত ধরেই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আইটি এবং টেক্সটাইল খাতের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *