প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে শান্তির নীড়: নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশিরা

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে এটি এখন একটি ‘প্রিমিয়াম’ গন্তব্য। ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের নতুন ‘স্কিলড মাইগ্রেন্ট’ নীতির ফলে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য দেশটিতে স্থায়ী হওয়ার পথ আরও সহজ হয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি ও শ্রমবাজার নিউজিল্যান্ডে বর্তমানে কয়েক হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এখানকার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের মূল বিচরণ আইটি, কৃষি প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে। নিউজিল্যান্ড সরকার সম্প্রতি আইটি প্রফেশনাল এবং কনস্ট্রাকশন ম্যানেজারদের জন্য বিশেষ ভিসা স্কিম চালু করেছে, যা বাংলাদেশিরা বেশ সফলভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। এছাড়া দেশটির ডেইরি ফার্ম ও কিউই ফলের বাগানেও অনেক বাংলাদেশি কাজ করছেন।
নতুন স্টুডেন্ট ভিসা ও কাজের সুযোগ ২০২৬ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারছেন। এছাড়া পড়াশোনা শেষ করার পর ৩ বছর পর্যন্ত ‘পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা’ পাওয়ার সুবিধা থাকায় বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে নিউজিল্যান্ড এখন পছন্দের শীর্ষে। অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি বা ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি গবেষকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান নিউজিল্যান্ডের প্রবাসীরা সেখানকার চমৎকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোগ করেন। শিশুদের শিক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা এখানে প্রায় বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যদিও জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা বেশি, তবুও আয়ের সাথে ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় থাকায় প্রবাসীরা সুখী জীবন যাপন করছেন। নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটি ছোট হলেও তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং স্থানীয় রাজনীতিতেও তাদের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে।











