নভেম্বর ৯, ২০২৬
#জাতীয় #প্রিয় বাংলাদেশ

শপথে নতুন অধ্যায়: তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু বিএনপি সরকারের পথচলা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো মঙ্গলবার বিকেলে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর দলটির নেতৃত্বে সরকার গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান।

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ প্লাজা যেন রূপ নেয় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষীতে। আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার আবহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে পূর্ণমন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

এই শপথ কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতীক। প্রায় দুই যুগ পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলো। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর দীর্ঘ বিরতির পর দলটি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তাদের জোটসঙ্গীরা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। ফলে সংসদে শক্ত অবস্থান নিয়েই সরকার গঠন করছে দলটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ভোটারদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ।

নতুন সরকারের সামনে এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সংস্কার—এসব ইস্যুতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ থাকবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শপথের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি “জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক” সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে গঠিত এই সরকার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল বিরোধী রাজনীতিতে নয়, শাসন পরিচালনাতেও সমান দক্ষ। দলটির জন্য এটি যেমন সুযোগ, তেমনি একটি বড় পরীক্ষা। সংসদে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নে সুবিধা দেবে, তবে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে সেই সমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিবর্তন নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসন পুনর্গঠন, নীতি পুনর্বিন্যাস এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার কত দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শপথে নতুন অধ্যায়: তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু বিএনপি সরকারের পথচলা

১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৫ মন্ত্রী ও

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *