১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীর শপথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ নেন। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।
রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন নতুন সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের দিকে।
নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তুলনামূলকভাবে তরুণ মুখদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে দলীয় অভিজ্ঞতা ও প্রজন্মগত পরিবর্তনের সমন্বয় করার চেষ্টা স্পষ্ট।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের একজন জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক, যিনি অতীতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কাজ করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাখা হয়েছে সংগঠনিকভাবে দক্ষ এক নেতাকে, যার ওপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দায়িত্ব বর্তাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন একজনকে দায়িত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই রকম ভারসাম্য দেখা গেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তরুণ সংসদ সদস্যদের যুক্ত করা হয়েছে, যাঁদের অনেকে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। এতে নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
নতুন সরকারের সামনে রয়েছে বেশ কিছু তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, কর্মসংস্থান সংকট এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি—এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় আকারের এই মন্ত্রিসভা সরকারের কাজের গতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, যদি দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয় কার্যকর থাকে। তবে মন্ত্রিসভার আকার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে—কার্যকারিতা ও ব্যয়ের প্রশ্নে জনমনে প্রত্যাশা যেমন উঁচু, তেমনি নজরদারিও কঠোর হবে।











