প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেটের ‘ম্যাজিকম্যান’ আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে যার পরিচিতি ‘ম্যাজিকম্যান’ হিসেবে, সেই সাবেক তুখোড় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবার জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই চমক দেখালেন তিনি। নবগঠিত সরকারে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁর নাম ঘোষণার পর সেদিনই শপথ গ্রহণ করেন তিনি, যা সিলেটের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
রাজপথ থেকে রাজপ্রাসাদ: এক সফল অভিযাত্রা
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুইবারের সফল মেয়র হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরী নগর উন্নয়নে যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন, তার পুরস্কার তিনি পেয়েছেন গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, এলাকার মানুষের ওপর তাঁর প্রভাব কতটা গভীর। ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬টি ভোট পেয়ে তিনি জয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন মাত্র ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সপ্তাহ না পেরোতেই এল সেই কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ায় এখন পুরো সিলেট বিভাগে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিশেষ করে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণের মতো মন্ত্রণালয় পাওয়ায় সিলেটের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, কারণ এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটি বড় অংশই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।
শপথ ও তৎপরতা
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় যখন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়, তখনই সিলেটের কুমারপাড়া থেকে শুরু করে গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুরের অলিগলি মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে। শপথ গ্রহণের পর আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবস অতিবাহিত করেন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মানুষ আমাকে যে বিপুল সমর্থন দিয়েছে, তার ঋণ শোধ করার সাধ্য আমার নেই। তবে আমি তাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।”
নতুন মন্ত্রী এরই মধ্যে তাঁর অগ্রাধিকার তালিকা ঠিক করে ফেলেছেন। বিশেষ করে বন্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করা এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রবাহকে বৈধ পথে আরও গতিশীল করা হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণ
সিলেটের মানুষ তাকে ‘ম্যাজিকম্যান’ বলে ডাকেন মূলত অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতার জন্য। নগরপিতা থাকাকালীন ছড়া উদ্ধার এবং রাস্তা প্রশস্ত করার মাধ্যমে তিনি যে চমক দেখিয়েছিলেন, এখন তা জাতীয় পর্যায়ে দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের প্রতিনিধি হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়াটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা ও নতুন বাজার সৃষ্টিতে তিনি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নিজের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আগামী ১০০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করছি।” শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং প্রবাসীদের ভোগান্তি কমানোই হবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য।











