নভেম্বর ৯, ২০২৬
#দেশভিত্তিক নিউজ #মধ্যপ্রাচ্য #শীর্ষ-২

অগ্নিগর্ভ ইরান: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১৩১ শহর লন্ডভন্ড

অগ্নিগর্ভ ইরান: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১৩১ শহর লন্ডভন্ড

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর শোকের কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। সোমবার ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের অন্তত ১৩১টি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে, যা অঞ্চলটিকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত ১৩১ শহর: মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ইরান

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া তথ্যমতে, হামলার পরিধি ছিল বিশাল। উত্তর থেকে দক্ষিণ—ইরানের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদই এই হামলার শিকার হয়েছে। আকাশপথে চালানো এই নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলায় কেবল সামরিক অবকাঠামোই নয়, বরং অনেক বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তেহরানসহ বড় বড় শহরগুলোতে দফায় দফায় সাইরেনের শব্দ আর বিস্ফোরণের আলোয় রাতগুলো বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে।

সংস্থাটি জানাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত শহরগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পেতে সময় লাগছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের মানবিক মিশন বর্তমানে বিরতিহীনভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রক্তদান কেন্দ্র থেকে শুরু করে জরুরি অস্থায়ী হাসপাতালগুলোতে এখন আহতদের উপচে পড়া ভিড়।

৪ কোটি স্বেচ্ছাসেবক ও বিশাল উদ্ধার অভিযান

এমন ভয়াবহ জাতীয় বিপর্যয়ের মুখে ইরান তার সর্বোচ্চ মানবিক শক্তি নিয়োগ করেছে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সারা দেশে ১ লাখেরও বেশি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী পূর্ণ সতর্কাবস্থায় কাজ করছেন। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এই স্বেচ্ছাসেবকরা কেবল খাদ্য বা প্রাথমিক চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নন, বরং স্বজন হারানো পরিবারগুলোকে মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন বা ‘সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট’ দেওয়ার কাজও করছেন।

রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া শহরগুলোতে উদ্ধারকারী দলগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ‘সরাসরি আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দাবি, ইরানের নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।


হামলার ভয়াবহতা ও উদ্ধারকাজের মূল চিত্র:

  • ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপ্তি: ১৩১টি শহর সরাসরি সামরিক হামলার শিকার।

  • প্রাণহানি: নিশ্চিতকৃত নিহতের সংখ্যা ৫৫০ জন (ক্রমবর্ধমান)।

  • উদ্ধারকারী দল: ১ লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী মাঠে নিয়োজিত।

  • স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী: মানবিক সহায়তার জন্য ৪০ লাখ মানুষের বিশাল নেটওয়ার্ক প্রস্তুত।

  • মানবিক সহায়তা: খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি মনস্তাত্ত্বিক সেবা প্রদান অব্যাহত।


কোন দিকে যাচ্ছে এই সংঘাত?

১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছি, কিন্তু এত অল্প সময়ে এত বেশি শহরে একযোগে হামলার ঘটনা বিরল। এই যৌথ হামলা কেবল ইরানের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর রেশ সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজার এবং ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেও, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে—প্রতিশোধের আগুন এখনই নিভছে না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *