নভেম্বর ৯, ২০২৬
#এডিটর্স পিক #কাতার #দেশভিত্তিক নিউজ #মধ্যপ্রাচ্য #শীর্ষ-৩ #সংযুক্ত আরব আমিরাত

‘আমিরাত-কাতারসহ ৪ দেশের প্রবাসীদের সুরক্ষার বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়েছে’

'আমিরাত-কাতারসহ ৪ দেশের প্রবাসীদের সুরক্ষার বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়েছে'

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেও সেখানে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের আশার বাণী শোনাল চার প্রভাবশালী দেশ।

সোমবার (২ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের শীর্ষ পর্যায় থেকে টেলিফোনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রবাসীদের সুরক্ষার বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা

সোমবার বিকেলে সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে আজ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন। দীর্ঘ আলাপে তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে বড় আকারের বাংলাদেশি শ্রমবাজার রয়েছে, সেই দেশগুলোর সরকার সরাসরি ঢাকার সাথে যোগাযোগ করায় প্রবাসীদের মনে জমে থাকা ভয় অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আলোচনার মূল বিষয় ও কৌশলগত গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টিও উঠে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলেও বাংলাদেশিদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য স্ব-স্ব দেশের স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে।

এই ফোনকলগুলো কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং বাংলাদেশের সাথে এই রাষ্ট্রগুলোর গভীর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলো বর্তমানে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের মূল উৎস। ফলে সেখানকার অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রমাণ করে যে, সংকটকালীন সময়ে ঢাকা সক্রিয় কূটনৈতিক পথে হাঁটছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশ্বাস প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনলেও, সংকটের মেঘ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। যুদ্ধের দামামা বাজলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। তবে উচ্চপর্যায়ের এই কূটনৈতিক নিশ্চয়তা প্রবাসীদের মনে সাহস জোগাবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *