মক্কা-মদিনায় ২৭ বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু: বাংলাদেশ হজ মিশন

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে ২৫ মে পর্যন্ত মোট ২৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন বলে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে হজের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশেষ সমন্বয় সভায় জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী।
পবিত্র হজের পুণ্যভূমিতে প্রতি বছরই লাখো মুসলমানের সমাগম ঘটে। তীব্র গরম, শারীরিক পরিশ্রম ও বয়সের কারণে প্রতিবারই বেশ কিছু হজযাত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ হজ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৃতদের মধ্যে ১৮ জন পবিত্র মক্কায় এবং ৯ জন মদিনা শরিফে ইন্তেকাল করেছেন।
মক্কায় অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, মৃতদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। একইসঙ্গে বলা হয়, ১৮ জন মক্কায় এবং ৯ জন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
হজ মিশনের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে চিকিৎসা ইউনিট, মোবাইল ক্লিনিক এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ফলে জটিল রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুনঃ সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীরা: অর্থনীতির চালিকাশক্তি, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার গল্প
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান তুলনা করলে দেখা যায়, হজে মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে ধীরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও এবার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগের বছর ২০২৪ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। আর ২০২৩ সালে, যখন ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজে অংশ নিয়েছিলেন, তখন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১২১ জন।
হজ মিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছরের মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আগাম স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উন্নত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল হেলথ কার্ডের ব্যবহার। এছাড়া হজ ক্যাম্প থেকে শুরু করে মদিনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, হজযাত্রীদের অধিকাংশ মৃত্যু হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক এবং বয়সজনিত জটিলতার কারণে হয়েছে। অতিরিক্ত গরম আবহাওয়াও অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় থাকায় বহু জটিল রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। ভবিষ্যতে মৃত্যুহার আরও কমাতে প্রি-ডিপার্চার মেডিকেল স্ক্রিনিং আরও কঠোর করা হবে। পাশাপাশি বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ হজযাত্রীদের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।











