২৩ দিনে দেশে এসেছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স; চাঙ্গা হচ্ছে অর্থনীতি

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা এনে দিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর যখন চাপ অব্যাহত, তখন প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের আগে পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ, কোরবানির প্রস্তুতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণে প্রতি বছরই প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠান। তবে এবার প্রবাহের পরিমাণ অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ২৩ মে এক দিনেই দেশে এসেছে ১৭ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সহজ লেনদেন এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রবাসীরা এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসীরা কারাবন্দি হলে কোথায় আইনি সহায়তা পাবেন?
বরাবরের মতোই মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের উন্নত দেশগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। ৫২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার পাঠিয়ে রেমিট্যান্সের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি সৌদি আরব। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য; দেশটি থেকে এসেছে ৫২ কোটি ১৬ লাখ ডলার।
এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ৪০ কোটি ২৭ লাখ ডলার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৩২ কোটি ১ লাখ ডলার। অন্যান্য শীর্ষ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া, ইতালি এবং ওমান থেকেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
শ্রমঘন মধ্যপ্রাচ্যের বাজার এবং উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশের রেমিট্যান্স আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও পেশাজীবী কাজ করছেন। এর মধ্যে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই প্রায় ২৮ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। একক দেশ হিসেবে সৌদি আরবেই বাস করেন ২১ লাখের বেশি প্রবাসী। বিদেশি শ্রমবাজারে ভারত ও পাকিস্তানের পর সৌদি আরবে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।











