নভেম্বর ৯, ২০২৬
#নতুন প্রবাসী গাইড

বিদেশে কাঙ্ক্ষিত ‘প্রথম কাজ’ পেতে যা করবেন

নতুন কোনো দেশে পাড়ি জমানোর পর সবার মনেই তীব্র উদ্বেগ থাকে কীভাবে মিলবে বিদেশে প্রথম কাজ। কেউ দ্রুত উপার্জনের জন্য ওড জবে ঢুকে পড়েন, আবার কেউ নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে প্রফেশনাল জবের সন্ধান করেন। তবে নতুন পরিবেশ ও নিয়মের সাথে খাপ খাইয়ে সঠিক চাকরিটি বেছে নেওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রবাস জীবনের আসল সাফল্য ও স্থায়িত্ব।

বিদেশের মাটিতে পা রেখেই অনেকে রেস্তোরাঁ, গ্যাস স্টেশন বা সুপারশপে কাজ শুরু করেন, যা ওড জব (Odd Job) হিসেবে পরিচিত। এসব কাজের প্রধান সুবিধা হলো দ্রুত নিয়োগ পাওয়া যায় এবং তাৎক্ষণিক হাতখরচ বা থাকা-খাওয়ার টাকা উঠে আসে। তবে এই কাজগুলো ভবিষ্যতের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা যোগ করে না। অন্যদিকে, প্রফেশনাল জব সরাসরি একজন কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নাগরিকত্ব (PR) পাওয়ার পথ সহজ করে।

নতুন প্রবাসীরা অধিকাংশ সময়ই তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকেন। টিউশন ফি পরিশোধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে তারা দ্রুত যেকোনো কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন। এই সাময়িক স্বস্তি অনেক সময় বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ ওড জবের দীর্ঘ ডিউটি শেষে নিজের প্রফেশনের চাকরি খোঁজার মতো শক্তি বা সময় আর অবশিষ্ট থাকে না। ফলে বহু যোগ্য তরুণ বছরের পর বছর একই বৃত্তে আটকে থাকেন এবং তাদের মূল ক্যারিয়ারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

প্রবাসে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী বিদেশে প্রথম কাজ পেতে হলে শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে এগোতে হবে। দেশ ছাড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট দেশের জব মার্কেট এবং ডিমান্ড ইন-প্রফেশনগুলো নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা প্রয়োজন। আপনার জীবনবৃত্তান্ত বা সিভিটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক ফরমেটে তৈরি করতে হবে, যেখানে দক্ষতার বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকবে। স্থানীয় ভাষা ও যোগাযোগের দক্ষতা উন্নত করা এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

বিদেশে রেফারেল বা পরিচিতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার হার অনেক বেশি। তাই পৌঁছানোর পর থেকেই বিভিন্ন প্রফেশনাল সেমিনার, জব ফেয়ার এবং কমিউনিটি ইভেন্টে অংশ নেওয়া উচিত। লিঙ্কডইনে সক্রিয় থেকে টার্গেট কোম্পানির মানবসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে পেশাদার সম্পর্ক গড়ে তুলুন। কোনো কোম্পানিতে সরাসরি ইন্টার্নশিপ বা ভলান্টিয়ারিং করার সুযোগ পেলে তা অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে, যা আপনাকে সরাসরি মূল চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে পারে।

আপনি যদি বর্তমানে কোনো ওড জবে যুক্ত থাকেন, তবে হতাশ না হয়ে একটি এক্সিট প্ল্যান তৈরি করুন। প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় রাখুন প্রফেশনাল জবের খোঁজখবর নেওয়া এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। আপনার বর্তমান কাজের পাশাপাশি নতুন কোনো টেকনিক্যাল স্কিল বা সার্টিফিকেশন কোর্স সম্পন্ন করতে পারেন। মনে রাখবেন, ওড জব কেবল বেঁচে থাকার রসদ জোগায়, কিন্তু প্রফেশনাল জব আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।

আপনি যদি কোনো প্রফেশনাল জবের জন্য আবেদন করেন, তবে অপ্রাসঙ্গিক ওড জবের কথা সিভিতে না রাখাই ভালো। তবে সেই কাজ থেকে যদি টিমওয়ার্ক বা কাস্টমার সার্ভিসের মতো কোনো সফট স্কিল অর্জিত হয়, তবে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে।

আদর্শগতভাবে পড়াশোনা শেষ হওয়ার ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নিজের ফিল্ডে চাকরি খোঁজা শুরু করা উচিত। অনেক দেশেই স্টুডেন্ট ভিসার পর ওয়ার্ক পারমিটের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, তাই এই সময়টিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো জরুরি।

বিদেশের মাটিতে ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখা হয়। এটি আপনার স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ায় এবং করপোরেট নেটওয়ার্ক তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে।

বিদেশে কাঙ্ক্ষিত ‘প্রথম কাজ’ পেতে যা করবেন

ইউরোপে পিআর: জেনে নিন কোন দেশগুলোর নিয়ম

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *