নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ নিউজ

মালয়েশিয়া প্রবাসী ও শ্রমবাজার: সর্বশেষ আপডেট

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। তবে নতুন নিয়োগব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, কত খরচ হবে এবং কোন এজেন্সি কীভাবে কাজ করবে—এসব বিষয়ে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া

মালয়েশিয়া ৩১ মে ২০২৪ থেকে বাংলাদেশি নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছিল। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী সংসদে জানান, শ্রমবাজার পুনরায় খোলার জন্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ চলছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে পারে—

মালয়েশিয়ার নির্বাচিত ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি
৩১২টি সহযোগী এজেন্সি
রাষ্ট্রীয় BOESL

তবে ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি কীভাবে চাকরির চাহিদাপত্র বা Job Order পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

কোন খাতে কাজের সুযোগ?

মালয়েশিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রধান অনুমোদিত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—

নির্মাণ, উৎপাদন/ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং সার্ভিস খাত।

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ ১৫ সেপ্টেম্বরের এক আপডেটে জানিয়েছে, তিনটি খাতে প্রায় ৭ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার সরকার বলছে, বিদেশি কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিল্পের প্রকৃত প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে এবং স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।

দক্ষ কর্মীদের জন্যও সুযোগ

মালয়েশিয়ার সরকারি eMASCO শ্রমবাজার প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১,০৬,৯৯১টি চাকরির সুযোগ এবং ২২,৮৪৮ জন চাকরিপ্রার্থীর তথ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে ইলেকট্রনিক্স টেকনিশিয়ান, IT সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, নেটওয়ার্ক পেশাজীবী, সফটওয়্যার/অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারসহ বিভিন্ন দক্ষ পেশাকে Critical Occupations List-এ রাখা হয়েছে।

তাই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শুধু সাধারণ শ্রমিক নয়, টেকনিক্যাল ও স্কিলড কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—অভিবাসন ব্যয়

নতুন শ্রমবাজার খোলার সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা খরচ হবে।

২০২২–২০২৪ সালের নিয়োগপর্বে প্রায় ৪.৫০ লাখ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখন গড় অভিবাসন ব্যয় প্রায় ৫.৪৪ লাখ টাকা ছিল, যেখানে সরকারি নির্ধারিত খরচ ছিল প্রায় ৭৮,৯৯০ টাকা।

নতুন ব্যবস্থায়ও খরচ ৬ লাখ টাকার বেশি হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি মালিক। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি খরচ নয়।

পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা

আগের নিয়োগব্যবস্থায় Job Order, মধ্যস্বত্বভোগী ও এজেন্সি-নির্ভর ব্যবস্থাকে ঘিরে অতিরিক্ত ব্যয় ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন ব্যবস্থাতেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়—এ নিয়ে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি ও মালয়েশিয়ার অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারও জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা জারি হওয়ার আগে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা বা পাসপোর্ট না নিতে এবং অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নিতে সতর্ক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে থাকা বাংলাদেশিরা

নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকলেও মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা আনুমানিক ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত বলা হয়েছে। তারা নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, প্ল্যান্টেশন, বন ও সার্ভিসসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন।

তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:

* বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন
* নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের নিয়ম
* বেতন ও কর্মপরিবেশ
* চিকিৎসা ও বিমা
* পাসপোর্ট ও নথিপত্রের নিরাপত্তা
* অবৈধ অবস্থান এড়িয়ে চলা
* নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তির শর্ত সংরক্ষণ

মালয়েশিয়ার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার prior approval প্রয়োজন এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত খাত ও কোটা ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে অবশ্যই—

1. চাকরির Job Offer/Employment Contract যাচাই করুন।
2. নিয়োগকর্তার নাম ও কোম্পানির অস্তিত্ব যাচাই করুন।
3. মোট খরচের লিখিত হিসাব নিন।
4. রসিদ ছাড়া টাকা দেবেন না।
5. কোনো দালালের কথায় বড় অঙ্কের টাকা দেবেন না।
6. ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য যাচাই করুন।
7. বেতন, কাজের সময়, থাকা-খাওয়া ও ছুটির শর্ত লিখিতভাবে নিন।
8. সরকারি অনুমোদন ও BMET/BOESL-এর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

এই মুহূর্তে “২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী ছয় মাসে মালয়েশিয়া যাবে”—এমন খবর বিভিন্ন মাধ্যমে এসেছে। তবে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে শিল্পের প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী; তাই নির্দিষ্ট ২ লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়টিকে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নির্মাণ, ম্যানুফ্যাকচারিং, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও সার্ভিস খাতে সুযোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিয়োগব্যবস্থা, এজেন্সির ভূমিকা, Job Order এবং কর্মীদের মোট অভিবাসন ব্যয়—এই বিষয়গুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মীদের সতর্ক থাকা জরুরি।

ইতালি প্রবাসী ও নতুন গমনেচ্ছুদের খবর

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *