ইউরোপের সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তা বিকল্প শক্তির নতুন ঠিকানা কি কানাডা?

ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এলএনজি ও ক্লিন এনার্জির নতুন উৎস হিসেবে বড় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে কানাডা। রাশিয়ার গ্যাস নির্ভরতা কমানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্রাসেলস ও অটোয়া যৌথভাবে সবুজ হাইড্রোজেন ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারের জন্য পরিচ্ছন্ন ও টেকসই শক্তির বিকল্প দুয়ার উন্মোচিত হলো।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় পুরো ইউরোপ মহাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা গভীর সংকটের মুখে পড়েছিল। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানির বৈশ্বিক মূল্যে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে নির্ভরযোগ্য ও গণতান্ত্রিক মিত্রদের দিকে ঝুঁকছে ব্রাসেলস। এই পরিস্থিতিতে বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ কানাডা ইউরোপের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও বিশ্বস্ত জ্বালানি সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
কানাডার পশ্চিমাঞ্চল ও আটলান্টিক উপকূলে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল মজুত ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। যৌথ উদ্যোগে নতুন এলএনজি (LNG) টার্মিনাল ও পাইপলাইন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত হওয়ায় ইউরোপে কানাডিয়ান গ্যাস পৌঁছানো অনেক সহজ হবে। জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলো ইতোমধ্যে কানাডার সাথে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ক্রয়ের প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
কানাডা কেবল সাময়িক স্বস্তির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহই করছে না, বরং ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদী সবুজ শক্তি রূপান্তরেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত জোটে জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনের পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমানোর বিষয়টি সমান প্রাধান্য পেয়েছে। অটোয়ার আটলান্টিক উপকূলের বায়ুবিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ ও অ্যামোনিয়া তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই হাইড্রোজেন সরাসরি ইউরোপের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পৌঁছানোর জন্য যৌথভাবে ‘গ্রিন এনার্জি করিডোর’ স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী এক দশকের মধ্যে এটি ইউরোপের ভারী শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান পরিচ্ছন্ন মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির বাজারে এক নতুন বিপ্লব আনবে ব্রাসেলস-অটোয়া অক্ষ।









