কানাডায় কাজের নতুন ফিল্টার: সুবিধা পাবে কারা, ঝুঁকিতে কোন কোর্স?

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা পিজিডব্লিউপি ওয়ার্ক পারমিট নীতিমালায় সাম্প্রতিক ফিল্টার ও পরিবর্তন পড়াশোনা শেষে সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনাকে নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং স্থানীয় লেবার মার্কেটে চাহিদা থাকা বিশেষ খাতের গ্র্যাজুয়েটরা সরাসরি তিন বছরের পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট পাচ্ছেন। তবে চাহিদা কম থাকা সাধারণ ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েশনের পর ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া আগের চেয়ে অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
কানাডা সরকার তার অভিবাসন ও শ্রমবাজার নীতিতে ভারসাম্য আনতেই মূলত এই নতুন ফিল্টার ব্যবস্থা চালু করেছে। এতদিন যেকোনো বিষয়ে ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি শেষ করলেই সমান মেয়াদের ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পথ খোলা ছিল।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আবাসন সংকট ও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় অতিরিক্ত লোকবলের চাপ কমাতে এই নমনীয়তা কমানো হয়েছে। ফলে কেবল সেইসব গ্র্যাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাদের মেধা ও অর্জিত শিক্ষা দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন এই নীতিমালায় সবচেয়ে লাভবান হচ্ছেন স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এমনকি তাদের পড়াশোনার সময়সীমা দুই বছরের কম হলেও বিশেষ ক্যাটাগরিতে তিন বছরের কানাডা পিজিডব্লিউপি ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার সুযোগ থাকছে।
পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সাইন্স, সাইবার সিকিউরিটি ও নির্মাণশিল্প সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কোর্সের শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশনের পরপরই দ্রুত চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাদের কানাডায় স্থায়ী বাসস্থান (PR) অর্জনের পথ মসৃণ হচ্ছে।
পক্ষান্তরে, কম চাহিদাসম্পন্ন বা সাধারণ বিজনেস ও আর্টস ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তন কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। নিয়ম অনুযায়ী শ্রমবাজারের তালিকার বাইরে থাকা এসব কোর্স থেকে পাস করার পর এখন আর নিশ্চিত ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হচ্ছে না।
তাই কানাডায় উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাবজেক্ট চয়েস ও ইনস্টিটিউটের ক্যাটাগরি ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কোর্স নির্বাচনের সময় বর্তমান ও আগামী পাঁচ বছরের লেবার মার্কেট ডিমান্ড স্টাডি করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।











