নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ

বাংলাদেশি এগ্রি-লেবার কোটা বৃদ্ধিতে জর্জিয়া ও মলদোভার বড় সিদ্ধান্ত

পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির দেশ জর্জিয়া ও মলদোভা কৃষিখাতে কৃত্রিম শ্রমসংকট দূর করতে বাংলাদেশি এগ্রি-লেবার কোটা উল্লেখযোগ্য হারে সম্প্রসারণ করার নতুন ঘোষণা দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রথাগত শ্রমবাজারের বাইরে ইউরোপের মাটিতে বৈধভাবে কাজ করার নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হতে যাওয়া এই দুটি দেশে কৃষি শ্রমিকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি কাজের বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি হলো।

বহু বছর ধরে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পূর্ব ইউরোপের কৃষিখাতে বিপুল শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় ওই অঞ্চলের দেশগুলো এশিয়ার উদীয়মান শ্রমবাজারের দিকে চোখ বাড়িয়েছে। জর্জিয়া এবং মলদোভা তাদের বাণিজ্যিক খামার, ফল বাগান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর আস্থা রাখছে।

চুক্তিভিত্তিক কাজের আওতায় ইউরোপের নিয়মকানুন ও কাজের সুযোগ পাওয়ার কারণে নতুন এই শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতা অর্জনেও বড় ভূমিকা রাখবে। উপযুক্ত নিয়ম মেনে গেলে এবং সরকার অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া শেষ করলে দালালদের প্রতারণা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

নতুন এই শ্রমবাজারে সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও বিদ্যমান রয়েছে। জর্জিয়া ও মলদোভায় ইংরেজি ভাষার ব্যবহার তুলনামূলক কম থাকায় প্রাথমিক অবস্থায় কাজের জায়গায় স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। কৃষি খামারে দ্রুত কাজ গুছিয়ে নিতে ভাষা শেখার প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া বেশ জরুরি।

অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ভিসার স্থায়ীত্ব। এই চুক্তি মূলত মৌসুমভিত্তিক এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কার্যকর থাকে। কাজের চুক্তি শেষ হলে নিজ দেশে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা থাকায় জর্জিয়া ও মলদোভায় কাজ করে সরাসরি স্থায়ী রেসিডেন্সি (PR) বা নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনগত সুযোগ থাকছে না।

ইউরোপে কাজের আকর্ষণীয় সুযোগ দেখে যেকোনো অসাধু দালাল বা ভুয়া এজেন্সির প্রলোভনে না পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। জর্জিয়া ও মলদোভায় কাজের পারমিট পাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার নির্ভরযোগ্যতা ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) ছাড়পত্র আছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া আবশ্যক।

সঠিক উপায়ে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রাথমিক কাজের নিয়ম জেনে গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই খাত বড় ভূমিকা রাখবে। একই সাথে পেশাগত কাজের দক্ষতা বজায় রাখলে পরবর্তী সময়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে কাজ করার যোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশি এগ্রি-লেবার কোটা বৃদ্ধিতে জর্জিয়া ও মলদোভার বড় সিদ্ধান্ত

ইইউ-কানাডা ঐতিহাসিক চুক্তি: এক ভিসায় ৬ দেশে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *