ডিপেন্ডেন্টদের ওয়ার্ক পারমিট ক্যাপ: সুবিধা নাকি প্রবাসী পরিবারের নতুন সংকট?

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি এবং পারিবারিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশ কিছু দেশ নতুন নীতি হিসেবে ওয়ার্ক পারমিট ক্যাপ বা কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করেছে।
এই নীতির ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ডিপেন্ডেন্ট বা জীবনসঙ্গীদের ফুল-টাইম কাজ করার আইনি অধিকারে নতুন বাধ্যবাধকতা যুক্ত হচ্ছে। নীতিটি একদিকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সফলতা নিশ্চিতের সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রবাসে পরিবার সামলানোর জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করাকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।
উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমানো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য থাকে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন করা। পূর্বে দেখা গেছে, অনেক সময় পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ছেড়ে কাজের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়তেন।
নতুন নীতিমালার ফলে ডিপেন্ডেন্টদের কর্মঘণ্টা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পারফরম্যান্স ও ক্লাসের মূল কাজের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার বড় সুযোগ পাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়লেও এই সিদ্ধান্তের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজেটে। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে বাসা ভাড়া ও জীবনযাত্রার খরচ আকাশচুম্বী।
ডিপেন্ডেন্টদের ফুল-টাইম কাজের আইনি সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিবার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব দম্পতি বিশাল অঙ্কের ব্যাংক লোন বা ফান্ড দেখিয়ে বিদেশে গেছেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষা ফোরাম ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করছে। তারা মনে করেন, হঠাৎ করে কাজের সময়সীমা বেঁধে দিলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সেসব দেশে পড়তে যেতে নিরুৎসাহিত হবেন।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর দাবি, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতেই ওয়ার্ক পারমিট ক্যাপ কার্যকর করা জরুরি ছিল। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার বাজারে এর কেমন প্রভাব পড়ে, তা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নীতিমালায় হয়তো আরও কিছু সংশোধন আসতে পারে।











