নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর পরিবার #শ্রমবাজার

দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিবার নিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা

দক্ষিণ কোরিয়ায় ম্যানুফ্যাকচারিং ও কৃষি খাতে কর্মরত অভিবাসীদের ভাগ্যোন্নয়নে E-9 থেকে E-7-4 ভিসা ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের বিশেষ পয়েন্ট সিস্টেম রুল প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা, কোরিয়ান ভাষা দক্ষতা এবং কোম্পানির সুপারিশপত্রের ভিত্তিতে অর্জিত পয়েন্ট ব্যবহার করে এই বিশেষ দক্ষ শ্রমিক ভিসার অনুমোদন মিলছে। ফলে চুক্তিভিত্তিক সাধারণ ভিসা পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কোরিয়ায় অবস্থান ও পরিবার নিয়ে বসবাসের পথ সুগম হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প ও কৃষি খাতের প্রসারে সাধারণ অদক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকদের নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয় নন-প্রফেশনাল ই-৯ ভিসার আওতায়। সময়ের সাথে সাথে কাজের অভিজ্ঞতা বাড়লেও সাধারণ নিয়মে চুক্তি শেষ হলে কর্মীদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নতুন পয়েন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে অভিজ্ঞ কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদে রেখে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালার ফলে কোরিয়ার কারখানা ও কৃষি খামারগুলোতে বছরের পর বছর দক্ষতার সাথে কাজ করা প্রবাসীরা তাঁদের মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন।

ভিসা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর মোট অর্জিত পয়েন্টই চূড়ান্ত যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। বয়সের পাশাপাশি কোরিয়ায় কাজের ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা এবং বার্ষিক আয়ের ওপর একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট নির্ধারণ করা থাকে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষার (TOPIK) ফল বা সোশ্যাল ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রাম (KIIP)। সাথে যদি কর্মরত কোম্পানির মালিক বা কর্তৃপক্ষের শক্তিশালী রিকমেন্ডেশন লেটার থাকে, তবে ভিসা পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

সুযোগের বড় দুয়ার উন্মোচিত হলেও এই ভিসা পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা এবং মালিকপক্ষের আনুকূল্য না পাওয়া প্রবাসীদের জন্য বড় বাধা।

অনেক কর্মী পর্যাপ্ত কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও শুধু ভাষার সনদ ও কোম্পানির অনুমোদনের অভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে ই-৯ ভিসাতেই দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তাই কোরিয়ায় পৌঁছানোর প্রথম দিন থেকেই প্রবাসীদের ভাষা শেখা ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত প্রায় কয়েক হাজার বাংলাদেশি ই-৯ ভিসাধারী শ্রমিক এই নতুন পয়েন্ট কাঠামোর সরাসরি সুবিধাভোগী হতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা এবং ভাষা শেখার প্রতি বাড়তি মনোযোগ দিলে পরিবারসহ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আর কঠিন কিছু নয়।

দুই দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও দক্ষ শ্রমশক্তির মান বাড়াতে এই রূপান্তর অত্যন্ত ফলপ্রসূ অবদান রাখছে। প্রবাসী কর্মীদের উচিত ইমিগ্রেশনের নিয়মিত সার্কুলার পর্যবেক্ষণ করে নিজ নিজ পয়েন্টের হিসাব তৈরি করা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিবার নিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা

এক সপ্তাহে ১০ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *