ইউকে ও ইউরোপে বাধ্যতামূলক হচ্ছে রাইট-টু-ওয়ার্ক শেয়ার কোড

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী কর্মীদের জন্য রাইট-টু-ওয়ার্ক শেয়ার কোড যাচাই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করায় কর্মসংস্থান বাজারে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। নিয়োগকর্তারা এখন থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি হোম অফিস বা সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ডেটাবেজ যাচাই করে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী যেমন শ্রম শোষণের হাত থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি আইনি নথি ছাড়া ক্যাশ-ইন-হ্যান্ডে কাজ করার প্রথাও পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে।
অসাধু নিয়োগকর্তা ও এজেন্সির বেআইনি দৌরাত্ম্য বন্ধে রাইট-টু-ওয়ার্ক শেয়ার কোড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক প্রবাসী আইনি জটিলতা বা অসচেতনতার সুযোগে ভুয়া এজেন্সির হাতে পড়ে ন্যূনতম মজুরি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
ডিজিটাল যাচাই চালু হওয়ায় এখন সরাসরি সরকারের সেন্ট্রাল সিস্টেমে প্রার্থীর কাজের অধিকার ও সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টার তথ্য চলে আসছে। এতে করে প্রকৃত দক্ষ প্রবাসীরা কাজের জায়গায় শতভাগ আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন এবং ন্যায্য বেতন নিশ্চিত হচ্ছে।
যাদের কাছে কার্যকর ভিসা নেই বা ডিজিটাল স্ট্যাটাস অ্যাপপ্রুভড নয়, তাদের জন্য যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে অনেকেই ক্যাশ-ইন-হ্যান্ডে কাজ জোগাড় করতে পারলেও এখন কোনো ভেরিফাইড প্রতিষ্ঠান এই ঝুঁকি নিচ্ছে না।
কোনো নিয়োগকর্তা শেয়ার কোড ছাড়া কর্মী নিয়োগ দিলে তাকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই কঠোরতার কারণে অবৈধ উপায়ে কাজ করার যে সুযোগ অতীতে ছিল, তা এখন শতভাগ বন্ধের পথে।
ইউকে হোম অফিস বা ইউরোপীয় অনলাইন পোর্টালগুলোতে গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর ও বিআরপি (BRP) বা ডিজিটাল ই-ভিসা অ্যাকাউন্ট দিয়ে সহজেই এই কোড তোলা যায়। তৈরি হওয়া ৯ সংখ্যার আলফানিউমেরিক কোডটি নিয়োগকর্তাকে দিলে তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনার রাইট-টু-ওয়ার্ক স্ট্যাটাস ভেরিফাই করতে পারেন।
কোডের মেয়াদ সাধারণত ৯০ দিন থাকে, যা সময়মতো নতুন করে রি-জেনারেট করা যায়। প্রবাসীদের উচিত নিয়মিত তাদের অনলাইন গভর্নমেন্ট প্রোফাইল আপডেট রাখা, যাতে চাকরি বদল বা নতুন নিয়োগের সময় কোনো কারিগরি বিড়ম্বনা না ঘটে।
পরিবর্তিত এই আইনি ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে প্রবাসীদের অবশ্যই নিজস্ব ডিজিটাল ভিসা প্রোফাইল সচল রাখতে হবে। ভুয়া দালালের প্রলোভনে না পড়ে সঠিক প্রক্রিয়ায় ভিসা নবায়ন এবং কাজের অনুমোদন জোগাড় করাই একমাত্র নিরাপদ পথ।
সামগ্রিকভাবে এই অনলাইন তদারকি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় বৈধ প্রবাসী কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।











