নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর পরিবার #শ্রমবাজার #সৌদি আরব

সৌদি আরবে ভিসা শেষ হওয়ার আগেই পরিবার নেওয়ার সুযোগ

সৌদি প্রবাসী অত্যন্ত দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদি আরবে ফ্যামিলি ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন আর কাজের ভিসার পূর্ণাঙ্গ প্রসেসিং শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে না। প্রসেসিং চলাকালেই প্রবাসীরা তাদের স্ত্রী, স্বামী কিংবা ২৫ বছরের কম বয়সি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন শুরু করার সুযোগ পাবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি সৌদি আরব তাদের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে একের পর এক নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে। বিশ্বের সেরা ও মেধাবী পেশাজীবীদের ধরে রাখতে ভিসা ব্যবস্থাকে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে কাজের ভিসা চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ফ্যামিলি ভিসার ফাইল হাত দেওয়া যেত, সেখানে এবার একই সাথে দুটি প্রক্রিয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলে গেল।

এর ফলে একজন প্রবাসী নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার সাথে সাথেই তাঁর পরিবারকে নিজের পাশে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। কাগজপত্র যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণের সময় এক ধাক্কায় বেশ কয়েক মাস কমে আসবে বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

নতুন এই নীতিমালার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী যারা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, উচ্চতর গবেষণা এবং করপোরেট ব্যবস্থাপনা খাতে কর্মরত, তাঁরাই মূলত অত্যন্ত দক্ষ কর্মী হিসেবে গণ্য হন।

আবেদনপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান চুক্তির বিবরণ, প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ন্যূনতম নির্ধারিত বেতন কাঠামো বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। পেশাগত দক্ষতা প্রমাণের সার্টিফিকেট এবং স্পন্সরের ডিজিটাল অনুমোদন থাকলে খুব সহজেই শুরু করা যাবে সৌদি আরবে ফ্যামিলি ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া।

নতুন নির্দেশনায় প্রবাসীদের পরিবারের সন্তান ক্যাটাগরিতেও বড় স্বস্তি প্রদান করা হয়েছে। প্রথাগত নিয়মে অনেক ক্ষেত্রে বড় সন্তানদের সাথে আনার ক্ষেত্রে বয়সজনিত নানা কড়াকড়ি থাকত। এবার পরিষ্কার জানানো হয়েছে, ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে-মেয়েরা এই ফ্যামিলি ভিসার আওতায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার বৈধ অনুমতি পাবেন।

পড়াশোনা ও পরিবারের সাথে বসবাসের মধ্যবর্তী সময়ে যে তরুণদের অনিশ্চয়তায় পড়তে হতো, এই নিয়মের ফলে সেই জটিলতার অবসান ঘটছে। এর ফলে প্রবাসীদের পারিবারিক জীবন আরও সুরক্ষিত হবে এবং তাঁরা মনোযোগ দিয়ে কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবেন।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী সৌদি আরবে কর্মরত থাকলেও তাঁদের একটি বড় অংশ সাধারণত সাধারণ ও শ্রমিক ক্যাটাগরিতে কাজ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রকৌশল খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সৌদি আরবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন।

যাঁরা উচ্চশিক্ষিত এবং দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে দেশটিতে কর্মরত বা নতুন করে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই আইন আশীর্বাদস্বরূপ। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রেও এই ধরনের যুগান্তকারী পরিবর্তন নতুন তাগিদ তৈরি করবে বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সৌদি আরবে ভিসা শেষ হওয়ার আগেই পরিবার নেওয়ার সুযোগ

প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধন সহজ করতে পৃথক আবেদন

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *