আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট থাকলে ইউরোপে কাজের কতটুকু সুযোগ মিলবে?

আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট সঙ্গে থাকলে বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে চালক বা ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজের সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। তবে স্থানীয় ড্রাইভিং থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী কমার্শিয়াল লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। ইউরোপীয় ট্রান্সপোর্ট রুলস ও কড়া ট্রাফিক আইনের কারণে শুধু এই অন্তর্বর্তীকালীন পারমিটের ওপর ভরসা করে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করা বেশ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো অনেক তরুণের মূল লক্ষ্য থাকে চালক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক পারমিট দিয়ে অনেক দেশেই সাময়িকভাবে গাড়ি চালানো যায়। বিশেষ করে খাবারের ডেলিভারি বা হালকা যানবাহনে কুরিয়ার সার্ভিসের কাজে এই সুযোগ বেশ কাজে দেয়।
নতুন দেশগুলোতে গিয়ে খণ্ডকালীন কাজের দ্রুত পথ হিসেবে এটি সাহায্য করে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা শুরুর দিনগুলোতে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করার সুবিধা পান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রান্সপোর্ট রুলস অনুযায়ী কোনো চালকই দীর্ঘমেয়াদে কেবল আন্তর্জাতিক পারমিটের ওপর নির্ভর করে বাণিজ্যিক যানবাহন চালাতে পারেন না। নির্দিষ্ট সময় পর ওই দেশের স্থানীয় ট্রাফিক আইন মেনে ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে হয়।
লিখিত থিওরি পরীক্ষা এবং প্র্যাকটিক্যাল ড্রাইভিং টেস্ট পাস না করলে স্থায়ী পেশাদার চালকের মর্যাদা মেলে না। তাছাড়া বড় বড় লজিস্টিকস কোম্পানিগুলো স্থায়ী লাইসেন্স ছাড়া পূর্ণকালীন নিয়োগ দিতে রাজি হয় না।
ইউরোপে ড্রাইভিং সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ খুবই কঠোর। সেখানে পারমিটের মেয়াদ ও কার্যকরতার নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ বা লাইসেন্সিং অথরিটি যদি দেখে নির্দিষ্ট মেয়াদের পর কোনো প্রবাসী আইডিপি ব্যবহার করছেন, তবে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে।
অনেক সময় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলে কাজের চুক্তি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই শুরুতেই আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি ইউরোপীয় আইনের জটিলতাগুলো জানা দরকার।
বিদেশে গিয়ে নিরাপদ ও স্থায়ী ড্রাইভিং ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চাইলে প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। ভাষা শেখা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়া এক্ষেত্রে প্রথম কাজ।
আন্তর্জাতিক পারমিটকে স্থায়ী সমাধানের বদলে শুধু একটি প্রাথমিক মাধ্যম বা পারাপারের সেতু হিসেবে দেখা উচিত। স্থানীয় লাইসেন্স পেয়ে গেলেই কেবল প্রবাসে কাঙ্ক্ষিত উপার্জন ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।











