নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মালয়েশিয়া #শ্রমবাজার

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের জন্য ই-কনস্যুলার সেবা চালু

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত, সহজ ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন নতুন অটোমেশনভিত্তিক ‘ই-কনস্যুলার সেবা’ চালু করেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর কথা জানিয়েছে হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যাদের প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দাপ্তরিক কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কনস্যুলার সেবাপ্রাপ্তি আরও নির্বিঘ্ন করতেই যুগান্তকারী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই কার্যক্রমে সনাতন কাগুজে পদ্ধতির বদলে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের পাসপোর্টের ফটোকপি থেকে উন্নত প্রযুক্তির অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (ওসিআর) স্ক্যানারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করবে সিস্টেম। ম্যানুয়ালি ডেটা এন্ট্রির প্রয়োজন না থাকায় নামের বানান বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ভুল হওয়ার ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

সিস্টেমটি সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি নথির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিক বা অনন্য কিউআর কোড (QR Code) তৈরি করছে। পরবর্তীতে নিয়োগকর্তা, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বা খোদ আবেদনকারী স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই কিউআর কোড স্ক্যান করে খুব সহজেই নথির সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালি রিভিউ করার সুযোগ থাকায় কাগজপত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতির সুযোগ থাকছে না।

কর্মসংস্থান, ভ্রমণ বা আইনি প্রয়োজনে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসীদের বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ছাড়পত্র ও সনদের দরকার হয়। হাইকমিশন জানিয়েছে, নতুন চালু হওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত পাসপোর্ট রেফারেন্স লেটার, পারিবারিক সম্পর্কসংক্রান্ত সনদ এবং সিঙ্গাপুর ট্রাভেল লেটারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে সড়কপথে বা কাজের তাগিদে সিঙ্গাপুরে যেতে অনেক প্রবাসীরই ট্রাভেল লেটারের প্রয়োজন পড়ে। আগে এসব কাগজপত্রের জন্য প্রবাসীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। দূরদূরান্ত থেকে কুয়ালালামপুরে এসে একাধিক কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত প্রতিনিয়ত। এখন থেকে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় সেবাগ্রহীতারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের কাঙ্ক্ষিত সনদ হাতে পাবেন।

বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন মিশনের কনস্যুলার সেবাকে ঘিরে ধীরগতি ও নানাবিধ হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কুয়ালালামপুরে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে প্রবাসীদের অনেক অর্থ ও শ্রম ব্যয় হতো। কখনো কখনো দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হওয়ার ঘটনাও ঘটত। প্রযুক্তিগত এই রূপান্তরের ফলে সেবাপ্রার্থী ও প্রদানকারীর মাঝখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকছে না।

একজন প্রবাসী সরাসরি নিজের নথিপত্র স্ক্যান করিয়ে দ্রুততম সময়ে ডিজিটাল সেবা নিতে সক্ষম হবেন। প্রবাসজীবনের হাড়ভাঙা খাটুনির মাঝে হাইকমিশনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপ তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ মিশনগুলোর আধুনিকায়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই প্রবাসীদের দাপ্তরিক কাজের জটিলতা দূর হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মান নিয়ে আস্থা ফিরে আসবে।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের জন্য ই-কনস্যুলার সেবা চালু

ব্যালন ডি’অর ২০২৬ জিতলেন হ্যারি কেন ও

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *