ওটিপি প্রতারণা: ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের কড়া সতর্কতা

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওটিপি (OTP) বা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে প্যারিসে অবস্থিত ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাস। সম্প্রতি দূতাবাসের নাম ভাঙিয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ প্রবাসীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ফোনে যোগাযোগ করে তারা নিজেদের দূতাবাসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। সাধারণ প্রবাসীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা টিকা বা ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দ্রুত পাইয়ে দেওয়া কিংবা অন্যান্য কনস্যুলার সেবা সহজে নিশ্চিত করার লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এরপর সেবা চূড়ান্ত করার অজুহাতে মোবাইল ফোনে আসা একটি ওটিপি জানতে চাওয়া হয়। সাধারণ মানুষ না বুঝে সেই গোপন কোডটি বলে দিলেই বড় ধরনের বিপদে পড়ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যাদের বড় অংশই বিভিন্ন শ্রমঘন পেশায় যুক্ত। কনস্যুলার সেবা বা পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজের জন্য তাদের প্রায়ই দূতাবাসের দ্বারস্থ হতে হয়। প্রতারকরা প্রবাসীদের এই নির্ভরতাকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা অত্যন্ত পেশাদার ভঙ্গিতে কথা বলে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যেন দ্রুত ওটিপি না দিলে ভ্যাকসিনের সিরিয়াল বাতিল হয়ে যাবে বা কাঙ্ক্ষিত সেবাটি আর পাওয়া যাবে না।
প্রকৃতপক্ষে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা দূতাবাস কখনোই ফোনে বা মেসেজে গ্রাহকের কাছে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড জানতে চায় না। প্যারিসের মিশনটি তাদের সতর্কবার্তায় এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। প্রবাসীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন ফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে অপরিচিত কাউকে কোনোভাবেই ওটিপি বা পিন নম্বর শেয়ার না করা হয়।
শুধু ওটিপি নয়, প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি। সাইবার অপরাধীরা এসব তথ্য সংগ্রহ করে প্রবাসীদের ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতে পারে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা বেআইনি কাজ পরিচালনার মাধ্যমে প্রবাসীদের বড় ধরনের আইনি জটিলতায় ফেলার ঝুঁকিও রয়েছে।
এমন সন্দেহজনক কোনো ফোন কল এলে প্রবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে লাইন কেটে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে সরাসরি দূতাবাসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা ভেরিফায়েড পেজে যুক্ত হয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা উচিত। যেকোনো কনস্যুলার সেবার জন্য দূতাবাসের নির্দিষ্ট ফি ও নিয়মকানুন রয়েছে, যা কখনোই ব্যক্তিগত ফোনে আর্থিক লেনদেন বা ওটিপি আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না।











