অক্টোবরে ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এল ২৬৬ কোটি ডলার

চলতি বছরের অক্টোবরে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে ব্যাপক গতি লক্ষ্য করা গেছে। মাসের প্রথম চার সপ্তাহে অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মোট ২৬৬ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে বৈদেশিক মুদ্রা আসার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্স আসার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ মাধ্যমের বদলে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠাতে অনেক বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছেন। মূলত দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বা ডলার রেট আগের চেয়ে বেশি বাজারভিত্তিক ও স্থিতিশীল হওয়ার কারণে ব্যাংকে এখন ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।
পাশাপাশি বৈধ পথে অর্থ পাঠালে সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার আর্থিক সুবিধাও প্রবাসীদের আকৃষ্ট করছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানামুখী কঠোর উদ্যোগ ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ২৮ দিনে যে পরিমাণ অর্থ এসেছে তাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার দেশে প্রবেশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কাতার থেকে বরাবরের মতোই বড় অঙ্কের অর্থ এসেছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও রেমিট্যান্স পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবাসীদের এই সচেতনতা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এখন সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের অর্থনীতিতে দারুণ স্বস্তি নিয়ে এসেছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে অব্যাহত চাপ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান প্রবাসী আয়ের এই ধারা বজায় থাকলে সেই চাপ অনেকটাই কমে আসবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের বর্তমান ইতিবাচক গতিধারা বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমাতেও সরাসরি সাহায্য করবে।











