নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #শীর্ষ-২

পোল্যান্ডে ড্রাইভার নিয়োগ: বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের লজিস্টিকস খাতের তীব্র কর্মী সংকট কাটাতে সম্প্রতি পোল্যান্ডে ড্রাইভার নিয়োগ প্রক্রিয়া জোরদার করেছে দেশটির বিভিন্ন পরিবহন সংস্থা। বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সি-ক্যাটাগরি সনদধারী দক্ষ ভারী যান চালকরা সরাসরি ইউরোপের এই লাভজনক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের পণ্য সরবরাহ চেইন একটি বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারির পর থেকে লজিস্টিকস খাতে কর্মী ঘাটতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অনেক বয়স্ক চালক অবসরে যাওয়ায় এবং নতুন প্রজন্ম এই পেশায় কম আগ্রহী হওয়ায় বিশাল শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে পোল্যান্ড এখন এশিয়ার দেশগুলোর দিকে নজর দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো থেকে আসা পরিশ্রমী চালকদের ওপর আস্থা রাখছে পোলিশ কোম্পানিগুলো। ইউরোপের এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য পরিবহনের জন্য মূলত হেভি ট্রাক বা ট্রেইলার চালাতে সক্ষম এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে চালক নির্বাচিত হলেও তাদের সরাসরি ইউরোপের মহাসড়কে ট্রাক নিয়ে নামার সুযোগ নেই। সেখানকার আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজা এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি বাংলাদেশের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই কারণে ওয়ারশ (Warsaw) ও ক্রাকোভের (Krakow) মতো প্রধান শহরগুলোর নির্ধারিত সেন্টারে বিদেশি চালকদের জন্য বিশেষ ওরিয়েন্টেশন বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই প্রশিক্ষণ পর্বে চালকদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রাফিক আইন, জিপিএস নেভিগেশন ব্যবহার করে সঠিক রুট ম্যাপ অনুসরণ এবং বৈরী আবহাওয়ায় নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের কলাকৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি আধুনিক ভারী ট্রাকের ড্যাশবোর্ড ও ডিজিটাল ট্যাকোগ্রাফ (Digital Tachograph) পরিচালনার নিয়মাবলি সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়। কয়েক সপ্তাহের এই নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণ চালকরাই কেবল লজিস্টিকস কোম্পানির হয়ে পণ্য পরিবহনের মূল দায়িত্ব পান।

আন্তর্জাতিক মানের এই পেশায় যুক্ত হতে পারায় বাংলাদেশি চালকদের সামনে উন্নত জীবনের পথ খুলছে। পোল্যান্ডের পরিবহন সংস্থাগুলো কর্মীদের জন্য আইনি সুরক্ষাসহ বেশ আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো নিশ্চিত করে থাকে। সাধারণ বেতনের পাশাপাশি ইউরোপের নিয়ম অনুযায়ী ওভারটাইম ভাতার সুযোগ থাকায় মাসিক আয় উল্লেখযোগ্য অঙ্কে পৌঁছায়। দীর্ঘ যাত্রাপথে চালকদের বিশ্রামের জন্য উন্নত মানের ট্রাকস্টপ এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলক বিরতির কড়াকড়ি নিয়ম থাকায় পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকিও তুলনামূলক অনেক কম।

পোল্যান্ডে ড্রাইভার নিয়োগ: বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ

অক্টোবরে ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এল ২৬৬ কোটি

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *