নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #শ্রমবাজার

এনএইচএসে সরাসরি স্পনসরশিপ পাচ্ছেন বাংলাদেশি চিকিৎসকরা

যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান চিকিৎসক সংকট মেটাতে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (NHS) বিভিন্ন হাসপাতালে সরাসরি স্পনসরশিপের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে এমবিবিএস শেষ করে নির্ধারিত যোগ্যতাসূচক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই এসব তরুণ পেশাজীবী সরাসরি নিয়োগপত্র হাতে পাচ্ছেন।

লন্ডন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশেষ করে জরুরি বিভাগ (ইমার্জেন্সি) এবং জেনারেল মেডিসিনে দীর্ঘদিনের কর্মী সংকট চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা এবং করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে এই শূন্যতা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। যুক্তরাজ্যের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের দীর্ঘ তালিকার কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কর্মী নিয়োগ দেওয়া ছাড়া কর্তৃপক্ষের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই। রোগীর চাপ সামলাতে ও চিকিৎসা সেবার মান ধরে রাখতে এনএইচএস কর্তৃপক্ষ এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকছে। মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিজেদের নির্ভরযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেন।

বাংলাদেশি মেডিকেল স্নাতকদের এনএইচএস-এর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে সুনির্দিষ্ট কিছু পেশাগত ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমত, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য ওআইটি (OET) বা আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত স্কোর অর্জন করা বাধ্যতামূলক। এরপর চিকিৎসা বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য প্ল্যাব (PLAB) পরীক্ষায় বসতে হয়। প্ল্যাব-১ ও প্ল্যাব-২ ধাপে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্যের জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের (GMC) পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন লাভ করেন।

এই নিবন্ধন সম্পন্ন হলে এনএইচএস ট্রাস্টের অধীনস্থ হাসপাতালগুলোতে সরাসরি চাকরির পথ খুলে যায়। বর্তমানে অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করছে। নির্বাচিতরা সরাসরি জুনিয়র ডক্টর এবং রেজিস্ট্রার পদে কাজের প্রস্তাব বা জব অফার লেটার পাচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগী বা এজেন্সির সাহায্য ছাড়াই এই নিয়োগগুলো সরাসরি সম্পন্ন হওয়ায় প্রার্থীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং প্রতারণার ঝুঁকি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি চিকিৎসকদের টিয়ার-২ হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসার আবেদন করতে হয়। যুক্তরাজ্য সরকার বিদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের আকৃষ্ট করতে এই বিশেষ ভিসায় নানা ধরনের প্রণোদনা যুক্ত করেছে। এর আওতায় চিকিৎসকদের জন্য ভিসা আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। সাধারণ কর্মসংস্থান ভিসার চেয়ে এর প্রক্রিয়াকরণের সময় অনেক কম হওয়ায় আবেদনকারীরা খুব দ্রুতই কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ পান।

এই স্পনসরশিপের আরেকটি বড় সুবিধা হলো দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পারমানেন্ট রেসিডেন্সি (PR) পাওয়ার সুযোগ। যুক্তরাজ্যে টানা পাঁচ বছর সন্তোষজনকভাবে চিকিৎসা পেশায় নিযুক্ত থাকার পর চিকিৎসকরা পিআর-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে বসবাস, পরিবারের সদস্যদের পূর্ণকালীন কাজের অধিকার এবং সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সুবিধাগুলোও এই স্পনসরশিপ ভিসার আওতায় নিশ্চিত করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *