এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি: ২০২৯ পর্যন্ত সুযোগ পেল ঢাকা

ঢাকা: স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে গৃহীত এই প্রস্তাবের বিষয়টি শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ঢাকায় জানানো হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বছরের সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা এবং শিল্প খাতের কর্মসংস্থানকে আকস্মিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেই সরকার এই অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল।
২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসেই বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেন এবং ইআরডি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। এরপর ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশের প্রস্তুতির জন্য ব্যক্তিগত সমর্থন কামনা করেন। এ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে গত ২৮ মার্চ ক্যামেরুনের ইয়াউন্ডেতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ফাঁকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে সময় বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করা হয়। এ ছাড়া গ্রুপ অব ৭৭ (জি-৭৭) জোট এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বাংলাদেশের প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান।
গত ২৯ এপ্রিল সিডিপির সঙ্গে ভার্চুয়াল পরামর্শ সভায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে ১ জুন সিডিপি ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানায়।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি লোক বাহাদুর থাপার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও নেপাল যৌথভাবে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেয়। গত ২১ জুলাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী দুই দেশের পক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপন করলে ইকোসক সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ গ্রহণ করে।
বর্ধিত এই তিন বছর সময়কে কাজে লাগিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বরের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।











