বিমানবন্দরে ফ্লাইট নিরাপত্তা বাড়াতে বেবিচকের বিশেষ উদ্যোগ

ঢাকা: প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে দেশের সব বিমানবন্দরে ফ্লাইট নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর সংস্থাটি জানায়, উড়োজাহাজে পাখির আঘাত ঠেকাতে আধুনিক সরঞ্জাম ও জনবল বাড়ানো হচ্ছে।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব সচল বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত পাখি নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর উড্ডয়ন ও অবতরণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রানওয়ে নিরাপদ রাখতে এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের চাহিদা যাচাই অনুযায়ী, দেশের আটটি বিমানবন্দরে পাখি তাড়ানোর জন্য মোট ২৬টি বিশেষ বন্দুক প্রয়োজন। এর মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয়টি এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের ওসমানী ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারটি করে বন্দুক দরকার। এ ছাড়া রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরে দুটি করে বন্দুকের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ও বিশেষ সেবা বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
বর্তমানে বেবিচকের কাছে থাকা ১১টি বন্দুকের মধ্যে কেবল সিলেট ও বরিশাল বিমানবন্দরে দুটি সচল রয়েছে। আগে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নামে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকায় বদলি বা অবসরের পর প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতো। সম্প্রতি বিধি সংশোধন করে নির্দিষ্ট পদ বা দপ্তরের নামে লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ তৈরি করায় নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহ ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে।
সরঞ্জামের পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পাখি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালাতে জনবল কাঠামো সংস্কার করছে বেবিচক। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আটটি বিমানবন্দরে এ কাজের জন্য মোট ৬৪ জন কর্মী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অনুমোদিত ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন।
প্রস্তাবিত নতুন জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্রবাসী অধ্যুষিত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরে ১১ জন করে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরে পাঁচজন করে কর্মী পদায়ন করা হবে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর বিমানবন্দরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পাখি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।
দীর্ঘমেয়াদি বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে সব বিমানবন্দরে আধুনিক ‘বার্ড কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’ (বিসিএমএস) চালু করা হবে। পাশাপাশি রানওয়ের আশপাশে পাখির আনাগোনা কমাতে অতিরিক্ত গাছপালা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজও শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আশপাশের এলাকা নিরাপদ রাখা বাধ্যতামূলক। এই আধুনিক পাখি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হলে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বিলম্ব ও যান্ত্রিক ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।











