নভেম্বর ৯, ২০২৬
#অর্থ-বাণিজ্য

বাংলাদেশ জাপান অর্থনৈতিক বৈঠক: বিকল্প অর্থায়ন ও বাণিজ্য

টোকিও: অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিকল্প বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে টোকিওতে বাংলাদেশ জাপান অর্থনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা ও সহকারী অর্থমন্ত্রী মিমুরা আতসুসির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জাপানের অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রচলিত কাঠামোর বাইরে বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন নতুন খাতে যৌথভাবে কাজ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনিসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। টোকিওর এই বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি সফরে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এ ছাড়া প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক রিজার্ভ পরিস্থিতি বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের টোকিও সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। ওই সফরে উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহলজাহাজ সরবরাহের জন্য জাপান ২১২ কোটি ইয়েন অনুদান এবং দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৬৬ কোটি ইয়েন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। টোকিওর বৈঠকে এই ইপিএ চুক্তির সুফল দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপান বর্তমানে দেশে ৮০টি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকার মেট্রোরেল, যমুনা রেলসেতু এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংযোগ বাড়ানোয় দেশে নতুন শিল্পায়ন এবং দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে জাপানি কারিগরি সহায়তা ও বিকল্প অর্থায়ন যুক্ত হলে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান আরও গতিশীল হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *