নভেম্বর ৯, ২০২৬
#সফলতা

সিইএস ২০২৭ বাংলাদেশি উদ্ভাবন: নির্বাচিত ১৬ দল, সহায়তা চায়

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি মেলায় সিইএস ২০২৭ বাংলাদেশি উদ্ভাবন প্রদর্শনের জন্য দেশের ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৬টি দল নির্বাচিত হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর আয়োজকদের পক্ষ থেকে তরুণ এই উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পৃষ্ঠপোষকতার আহ্বান জানানো হয়।

২০২৭ সালের ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চার দিনব্যাপী কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস) লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের নির্বাচিত ১৬টি দলের মধ্যে ১০টি হার্ডওয়্যার উদ্ভাবন এবং ছয়টি সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। স্বাস্থ্যসেবা, রোবোটিকস, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড ও প্রতিবন্ধী সহায়ক প্রযুক্তির নানা সমাধানে এসব প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।

সিলিকন রিভার বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বেয়ার সামিট ২০২৬’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই ১৬টি দলকে বাছাই করা হয়েছে। নির্বাচিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নানজিবা ইসলামের নেতৃত্বে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ইনফিউশন মনিটরিং প্রযুক্তি ‘বায়োড্রিপ’ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সানজিলা শাহান চৌধুরীর নেতৃত্বে নির্মিত ইশারা ভাষার স্মার্ট গ্লাভস ‘সাইনগ্লাভ’। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক ও পেশাগত সাফল্য বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

অন্যান্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োনিক হাত ‘স্মার্টমোশন বায়োনিকস’, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়ক ‘ভিশনএইড’, স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘নিরাময়এআই’ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বাংলা ব্রেইল প্রিন্টার। কৃষি ও জ্বালানি খাতে রয়েছে ‘কৃষক এআই’, সৌর প্যানেল পরিষ্কারক রোবট ‘সোলআর্ম’ এবং সমন্বিত ড্রোন প্রযুক্তি ‘নিরো ফ্যালকনস’।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় বুয়েট ও ড্যাফোডিল ছাড়াও রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং সিলিকন রিভারের প্রধান স্থপতি ড. মুহাম্মদ মোস্তফা হোসেন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী অধ্যাপক মুহাম্মদ মোস্তফা হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের প্রকল্প শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শন করাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনগুলোকে বিশ্বমানের বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই মূল উদ্দেশ্য। এর আগে সিইএস ২০২০ আসরে ‘বেস্ট অব ইনোভেশন’ পুরস্কার জয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিলিকন রিভার প্রদর্শনী স্টলের ব্যবস্থা করলেও শিক্ষার্থীদের বিমানভাড়া, আবাসন ও প্রোটোটাইপ পরিবহনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এ জন্য দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি বা ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে একক বা যৌথভাবে পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আয়োজক সংস্থা সিলিকন রিভার জানিয়েছে, নির্বাচিত দলগুলোর অন্যান্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান প্রযুক্তি, ইনডোর ডেলিভারি রোবট, বায়োমিথেন উৎপাদন এবং কাপড়ের ত্রুটি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি। মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বৈশ্বিক মানে পৌঁছে দিতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ মোস্তফা হোসেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *