নভেম্বর ৯, ২০২৬
#অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি ব্যয় মাথাপিছু খরচ ৫৪৬ ডলার বৃদ্ধি

ক্যানবেরা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বাড়ায় অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে জনপ্রতি গড়ে ৫৪৬ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সিআরইএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আট মাসে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির ওপর ১ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান চার গন্তব্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্বে মাথাপিছু জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পরই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মার্চ থেকে অক্টোবর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের মাথাপিছু গড়ে ৬৬৬ মার্কিন ডলার এবং কানাডার বাসিন্দাদের মাথাপিছু ৫৯৭ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় কারিগরি শিক্ষা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাথাপিছু ৪৮৪ মার্কিন ডলারে। উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত কাজে এসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মাসিক যাতায়াত ও জীবনযাত্রার বাজেটে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

এই গবেষণায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আগের দুই মাস অর্থাৎ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির গড় জ্বালানি মূল্যের সঙ্গে মার্চ-অক্টোবর সময়ের তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ১৬৯টি দেশে মোট ৬৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় মুদ্রাস্ফীতির যে ছয়টি বড় ঢেউ এসেছে, তার প্রতিটির পেছনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের আকস্মিক উল্লম্ফন প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। জ্বালানি খরচ বাড়ার ফলে পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের দামও সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লুক হার্টিগান জানান, খনি ও কৃষি খাতে ব্যাপক জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বিশ্বে মাথাপিছু জ্বালানি খরচের হার অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের যেকোনো অস্থিরতা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও জীবনযাত্রায় দ্রুত প্রভাব ফেলছে।

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দৈনন্দিন যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের খরচ সামাল দিতে তাঁদের মাসিক সঞ্চয় কমাতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন খাতের এই বাড়তি ব্যয় অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *