কারিগরি শিক্ষায় অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

অস্ট্রেলিয়ায় ভোকেশনাল বা কারিগরি কোর্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) নতুন ও সহজ সুযোগ তৈরি হয়েছে। মেলবোর্ন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অটোমোবাইল মেকানিক, বাণিজ্যিক রান্নাবিদ্যা (শেফ) এবং কাঠমিস্ত্রির (কার্পেন্ট্রি) মতো ট্রেড কোর্স শেষে মাত্র এক বছরের শিক্ষানবিশি পার করলেই মিলছে স্পনসরশিপ।
দেশটির ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (VET) কাঠামোর আওতায় কারিগরি শিক্ষার এই প্রসার ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে নীল কলার (blue-collar) বা কায়িক শ্রমভিত্তিক পেশাজীবীর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। মূলত করোনা মহামারির পর থেকে নির্মাণ, আতিথেয়তা ও মোটরগাড়ি শিল্পে দক্ষ কর্মীর সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এই শূন্যস্থান পূরণে সে দেশের সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের কারিগরি পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষাঙ্গনে, যেখানে চিরাচরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের বাইরে গিয়ে সরাসরি কর্মমুখী এসব কোর্সে ভর্তির হার প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান শ্রমবাজারে নির্দিষ্ট কিছু কাজের তুমুল চাহিদা লক্ষ করা যাচ্ছে। মোটরগাড়ি মেরামত বা অটোমোবাইল মেকানিক, কমার্শিয়াল কুকারি এবং কার্পেন্ট্রির কাজ এই তালিকার শীর্ষদিকে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ থেকে আসা অসংখ্য শিক্ষার্থী এখন অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার বদলে সরাসরি এসব কোর্সে নিজেদের যুক্ত করছেন। ভিইটি (VET) কোর্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক বা হাতে-কলমে শিক্ষার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, মূল কোর্স সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের এক বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশি বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ করতে হয়। কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে এই এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে স্পনসরশিপ পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। নিয়োগদাতার এই স্পনসরশিপ পরবর্তীতে স্থায়ী রেসিডেন্সি পাওয়ার আইনি পথ সুগম করে।
প্রতি বছর উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। তাদের একটি বড় অংশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থাকে পড়াশোনা শেষে সেখানে স্থায়ী হওয়া। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রিগুলোর টিউশন ফি বেশ চড়া হয়ে থাকে। তাছাড়া ডিগ্রি শেষে পেশাগত স্তরের চাকরি খুঁজে পাওয়াও সেখানে বেশ প্রতিযোগিতামূলক। সেই তুলনায় ট্রেড বা ভোকেশনাল কোর্সগুলোর খরচ অনেকটাই সাধ্যের মধ্যে থাকে।
পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক কাজ শেখার কারণে স্থানীয় শিল্পের সাথে শিক্ষার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি তরুণরা স্বভাবতই পরিশ্রমী হওয়ায় তারা খুব দ্রুত অস্ট্রেলিয়ান কর্মপরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হন। কারিগরি দক্ষতাকে পুঁজি করে তারা একদিকে যেমন দ্রুত উপার্জনের মুখ দেখেন, তেমনি অভিবাসন আইনের শর্তগুলোও সহজে পূরণ করতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকা বা রিজিওনাল এরিয়াগুলোতে এই সম্ভাবনা আরও বেশি। সিডনি বা মেলবোর্নের মতো বড় শহরের পাশাপাশি পার্থ, অ্যাডিলেড কিংবা ডারউইনের মতো শহরগুলোতে কারিগরি কর্মীর চাহিদা অত্যন্ত বেশি। সেখানে ট্রেড কোর্স সম্পন্ন করলে অভিবাসন আবেদনে অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে, যা পয়েন্টভিত্তিক সিস্টেমে (Point-based system) আবেদনকারীকে অনেকটাই এগিয়ে রাখে।











