জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ: ১ লাখ কর্মীর দাবি নাকচ টোকিওর

টোকিও: জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক লাখ কর্মী নেওয়ার দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সচিব কিতামুরা তোশিহিরো এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সচিব কিতামুরা তোশিহিরো জানান, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাপান-বাংলাদেশ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি। এমনকি দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনাতেও এমন কোনো সংখ্যার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্যের জন্য আগ্রহী কর্মী এবং পাঠকদের জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাফতরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শীর্ষ বৈঠকের বিবরণী দেখার পরামর্শ দিয়েছেন কিতামুরা তোশিহিরো। এর আগে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বছরে এক লাখ কর্মী জাপানে পাঠানোর পরিকল্পনার খবর প্রচারিত হয়েছিল। এ ছাড়া বৈদেশিক শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
প্রবাসী কর্মীদের বিভ্রান্তি এড়াতে টোকিওর পক্ষ থেকে এই দ্রুত স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে। ফলে জাপানে গমনেচ্ছু কর্মীদের যেকোনো এজেন্সি বা মধ্যস্বত্বভোগীর প্রলোভনে না পড়ে কেবল সরকারি ও দাফতরিক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করার তাগিদ তৈরি হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ভোরে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার, ২৬ অক্টোবর তিনি টোকিও সফরে গিয়েছিলেন। সফরকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ এবং অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাপানি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দেশ গঠনে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মোট ছয়টি সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ পরিবেশ, উপকূলীয় নিরাপত্তা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের এই কাঠামোর আওতায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কারিগরি মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ বাড়বে।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জাপান সরকার বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জন এবং নির্ধারিত কারিগরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমেই কেবল দেশটির শ্রমবাজারে বৈধভাবে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: নিউ এজ বিডি











