নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: ২ লাখ কাজের সুযোগ ও দক্ষতা

বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে টোকিও নতুন অঙ্গীকার করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জাপান সফরের ফলাফল তুলে ধরেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এটি কোনো সরকারি ঋণ নয়, বরং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো যাচাই ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিগগিরই জাপানের একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। জাতীয় অগ্রাধিকার, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিটি প্রস্তাব মূল্যায়ন করবে। প্রচলিত ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

দুই দেশ দীর্ঘদিনের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ উদ্যোগকে ‘বিআইজি বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ হিসেবে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় জাপান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সফরকালে ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি, মিতসুবিশি এবং টয়োটা সুশো করপোরেশনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে গাড়ি ও যন্ত্রপাতি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করে। এসব উদ্যোগে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি সহযোগিতা ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকার সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সহনশীলতা ও জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য জাপান ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণ দিয়েছে। জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

সফরকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক পরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহযোগিতা বিষয়ে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া টেকসই নগরায়ণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশ একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *