থাইল্যান্ডে শ্রমিক অভিবাসন ও প্রশিক্ষণ বাড়াতে ঢাকার প্রস্তাব

ঢাকা: থাইল্যান্ডে শ্রমিক অভিবাসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং মানব পাচার রোধে যৌথভাবে কাজ করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ব্যাংককে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ (এফওসি) বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংককের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিন্তারুচি। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগের পাশাপাশি শ্রমিক অভিবাসন এবং শিক্ষা-প্রশিক্ষণ খাতের অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনাধীন শ্রমিক অভিবাসন এবং চাল আমদানিসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (টিকা) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য আতিথেয়তা, নার্সিং, জার্মপ্লাজম এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে পেশাগত প্রশিক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন কর্মসংস্থান বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
মানব পাচার, অনলাইন প্রতারণা, অস্ত্র পাচার ও মাদক কারবারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়ে বৈঠকে উভয় পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করে। প্রবাসী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এসব প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশি ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যের আমদানি বাড়ানো এবং শুল্ক কমানোর জন্য থাইল্যান্ডকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। থাই প্রতিনিধিদল এই প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দ্রুত আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানায়। এ ছাড়া বৈশ্বিক হালাল খাদ্যের বাজার ধরতে থাইল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চেয়েছে ঢাকা।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে প্রথম সরাসরি নৌপরিবহন সেবা চালু হওয়ায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে। এই সরাসরি জাহাজ চলাচলের ফলে পণ্য পরিবহনের সময় ১৫ দিন থেকে কমে মাত্র চার দিনে নেমে আসবে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনে কৃষি বর্জ্য প্রযুক্তির সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি সামনে রেখে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার ও আরসিইপি চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ব্যাংককের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়বে। উভয় দেশ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।











