নভেম্বর ৯, ২০২৬
#সৌদি আরব

সৌদি রুটে ফ্লাইট ব্যাহত ১৫৯টি, ভোগান্তিতে ২৩ হাজার যাত্রী

ঢাকা: সৌদি আরবের বিমানবন্দরে উড্ডয়ন বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে সৌদি রুটে ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে মোট ১৫৯টি। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রীর ভোগান্তির তথ্য জানিয়েছে।

বেবিচকের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৮২টি। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারের ১৫টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী ও ওমরাহ যাত্রী এসব ফ্লাইটে ভ্রমণের অপেক্ষায় ছিলেন।

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটের কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ভারতীয় সংস্থা ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি ফ্লাইট রয়েছে। এ ছাড়া ওমানভিত্তিক সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবে প্রবাসী আকামা ও ভ্রমণ সুবিধা বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

গত শনিবার, ১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আকাশপথে কড়াকড়ি ও পরিচালনাগত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি ও ট্রানজিট উভয় রুটের বিমান চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ বুধবার, ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে রোববার, ২৫ অক্টোবর বিমান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখা হচ্ছে।

জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে গমনেচ্ছু প্রবাসী কর্মী ও যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ঢাকা থেকে জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে মদিনা রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

স্থগিত থাকা ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী সময়সূচি ও নতুন সিদ্ধান্ত যথাসময়ে যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। টিকিট পরিবর্তন, রিফান্ড বা ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হওয়ায় এবং সারা বছর ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াত থাকায় এই রুটে যাত্রীর চাপ সব সময় বেশি থাকে। স্থগিত ফ্লাইটের যাত্রীদের পর্যায়ক্রমে বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এয়ারলাইনসগুলো বিশেষ সমন্বয় করছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *