চাকরির প্রলোভনে পাচার: পুনে থেকে ৬ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার

পুনে: ভারতে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভনে পাচার হওয়া ছয় বাংলাদেশি নারীকে মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহর থেকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যানুযায়ী, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুনের বুধওয়ার পেথ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় স্থানীয় পুলিশ। পুনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন-১) ঋষিকেশ রাওয়ালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ছয় বাংলাদেশি নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া নারীদের জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগে পুনের ফারাসখানা থানায় চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশি অভিযানে অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর দুই পলাতক আসামিকেও গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে ফারাসখানা থানা-পুলিশ। এ ছাড়া দূতাবাসে পাসপোর্ট ও প্রবাসী সেবা বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় চার মাস আগে দালাল চক্রের সদস্যরা ওই ছয় নারীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া নারীদের কাছে বৈধ কোনো পাসপোর্ট, ভিসা বা পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত পার করে তাঁদের মহারাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ভুক্তভোগী নারীরা জানিয়েছেন, দালালরা তাঁদের ভারতের মুম্বাইসহ বড় শহরগুলোতে ভালো বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সচ্ছলতার আশায় দালালদের কথায় বিশ্বাস করে তাঁরা সীমান্ত পাড়ি দেন। কিন্তু মুম্বাইয়ে চাকরি দেওয়ার বদলে দালাল চক্র তাঁদের পুনেতে নিয়ে বিক্রি করে দেয়।
পুনে শহরে বাংলাদেশি নারীদের এভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে পাচার করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৬ সালের মার্চ মাসেও পুনে নগর পুলিশ একই বুধওয়ার পেথ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল। সে ক্ষেত্রেও ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়া হয়েছিল।
বারবার এমন মানব পাচারের ঘটনা সামনে আসায় বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের দালাল চক্রের মৌখিক প্রলোভন থেকে দূরে থাকার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারি নিবন্ধন, বৈধ ভিসা ও যাচাইকৃত নিয়োগপত্র ছাড়া কোনো অবস্থাতেই সীমান্ত পাড়ি না দেওয়ার জন্য প্রবাসী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সতর্ক করা হচ্ছে।
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ছয় বাংলাদেশি নারীকে বর্তমানে সরকারি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে দালালদের প্রলোভন এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।











