মধ্যপ্রাচ্যে কাতারের মধ্যস্থতা: তেহরানে গেল প্রতিনিধিদল

আট মাস ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এই সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি তেহরানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছে। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত অর্ধকোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা এই শান্তি আলোচনার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
কাতারের প্রতিনিধিদলের এই সফরের এক দিন আগে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ইরানি গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত রোববার, ২৫ অক্টোবর চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়, যেখানে শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাতারে প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন সুরক্ষা ও ভিসা নীতি বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় এক সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও কূটনৈতিক আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছেন।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিমান চলাচল ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এপ্রিলে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার পর থেকেই স্থায়ী শান্তির জন্য কাতার ও পাকিস্তান যৌথভাবে মধ্যস্থতা করে আসছে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তেহরান দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং তেল খাতের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। কাতারের এই মধ্যস্থতা সফল হলে উপসাগরীয় শ্রমবাজার ও প্রবাসীদের যাতায়াত আবারও স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, কাতার ও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর এই সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান আরও নিরাপদ হবে।











