নভেম্বর ৯, ২০২৬
#দুর্ঘটনা #সৌদি আরব

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মামুনের নিথর দেহ ফিরল স্বদেশে

মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চেয়েছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যুদ্ধের অগ্নিগর্ভে ভস্মীভূত হলো সেই স্বপ্ন। সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ আজ সোমবার সকালে দেশে পৌঁছেছে। কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন তিনি, যার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে ছিল এক লড়াকু পরিবার।

আজ সোমবার সকাল পৌনে ১০টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইট। সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ের মাঝে কার্গো হোল্ড থেকে বেরিয়ে আসে একটি কাঠের কফিন। সেখানে লেখা নাম—আবদুল্লাহ আল মামুন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো এই বাংলাদেশির মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী নিজে মরদেহের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে তখন এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত কর্মকর্তাদের চোখেও ছিল বিষণ্নতার ছায়া। রেমিট্যান্সের চাকা সচল রাখা এক যোদ্ধার এমন করুণ বিদায় যেন গোটা দেশকেই শোকাতুর করে তুলেছে।

সৌদি আরবে কর্মরত আবদুল্লাহ আল মামুন গত কয়েক সপ্তাহ আগে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হন। যুদ্ধের লেলিহান শিখা তার কর্মস্থলকে গ্রাস করলে তিনি মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন। স্থানীয় হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বেশ কয়েক দিন লড়াই করার পর অবশেষে হার মানেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা তার স্বজনেরা।

আরও পড়ুনঃ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা, জেনে নিন প্রয়োজনে যোগাযোগের নম্বর!

মামুনের সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি সবসময় দেশের কথা বলতেন। ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা আর বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে দিনরাত পরিশ্রম করতেন। যুদ্ধের ডামাডোলে অনেককে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও নিয়তি তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লাগা আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই তার স্বপ্নগুলোকে ছাই করে দেয়।

আবদুল্লাহ আল মামুনের এই মৃত্যু আবারও বড় করে সামনে নিয়ে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তার বিষয়টি। যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, ততই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে প্রবাসীদের জীবন। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রতিটি প্রবাসীর জীবনের মূল্য বুঝি। যুদ্ধকবলিত এলাকায় থাকা বাংলাদেশিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামুনের মতো আর কোনো প্রাণ যেন অকালে ঝরে না যায়, সেজন্য আমরা আন্তর্জাতিক মহলে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে কেবল প্রাণহানি নয়, বরং প্রবাসীদের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ছে। মামুনের পরিবারের মতো আরও হাজারো পরিবার এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিহত মামুনের পরিবারকে দ্রুত বীমার টাকা ও বিশেষ অনুদান প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মামুনের নিথর দেহ ফিরল স্বদেশে

স্টেথোস্কোপ ছেড়ে ককপিট: একটি ভিডিও যেভাবে বদলে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *