নিথর দেহে ফিরলেন মামুন: গফরগাঁওয়ে চোখের জলে রেমিট্যান্স যোদ্ধার বিদায়

মরুভূমির তপ্ত বালুতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চেয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আল মামুন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আর আকস্মিক মিসাইল হামলা কেড়ে নিল তার প্রাণ। মর্মান্তিক সেই ঘটনার ২০ দিন পর অবশেষে কফিনবন্দী হয়ে জন্মভিটা ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ফিরলেন তিনি। সোমবার আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটটি। সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ের মাঝে যখন কার্গো হোল্ড থেকে মামুনের কফিনটি বেরিয়ে আসে, তখন সেখানে উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে দেশ ছেড়েছিলেন মামুন, কিন্তু কে জানত—ফেরাটা হবে এমন স্তব্ধ ও নিথরভাবে।
বিমানবন্দরে মরদেহটি রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। মন্ত্রী নিজে কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে বীমা ও অনুদানসহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করা হবে। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে দুপুরের দিকে মরদেহবাহী গাড়িটি রওনা দেয় গফরগাঁওয়ের উদ্দেশে।
বিকেলের দিকে মামুনের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি যখন গফরগাঁওয়ের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন সেখানে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। পাড়া-প্রতিবেশী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনের ভিড়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ২০ দিন ধরে যে মানুষটির লাশের জন্য পুরো গ্রাম পথ চেয়ে ছিল, তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় জমান সর্বস্তরের মানুষ।
নিহত মামুনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তান। স্বজনরা জানান, মামুন সবসময় বলতেন পরিবারের কষ্ট দূর করাই তার জীবনের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বিদেশের মাটিতে কাজের ফাঁকে আকস্মিক মিসাইল হামলায় তার সেই সাজানো স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।











