মালয়েশিয়া থেকে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন মনিরুল

ঢাকা: সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসে পাড়ি জমানো ২৪ বছর বয়সী মনিরুল ইসলাম নামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসী তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারগাড়ী চন্দ্রকোনা গ্রামে তাঁর কফিনবন্দী মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহত প্রবাসী মনিরুল ইসলাম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী চন্দ্রকোনা গ্রামের ইয়াসিন আলীর একমাত্র ছেলে। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মনিরুল ছিলেন চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বিপুল টাকা ধারদেনা করে তাঁকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মনিরুলের কফিনবন্দী মরদেহ পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে স্বজনেরা লাশ গ্রহণ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি পীরগঞ্জে নিয়ে যান। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রবাসী বিমা ও সহায়তা বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর মালয়েশিয়া থেকে প্রথম মনিরুলের মৃত্যুর খবর পান তাঁর মা-বাবা। প্রবাসে থাকা সহকর্মীদের মাধ্যমে পরিবারকে জানানো হয়, আগের রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর পর সকালে আর ঘুম থেকে ওঠেননি মনিরুল। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মালয়েশিয়ায় গিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মনিরুল যে সামান্য টাকা দেশে পাঠাতেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলত তাঁর মা-বাবার সংসার ও ঋণের কিস্তি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা ইয়াসিন আলী ও মা মনোয়ারা বেগম এখন পুরোপুরি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। বাবা ইয়াসিন আলী জানান, নিজেকে নিঃস্ব করে অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু ছেলের মৃত্যুতে তাঁদের সব অবলম্বন শেষ হয়ে গেছে।
মা মনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় মনিরুল কথা দিয়েছিলেন চাকরি করে নিয়মিত টাকা পাঠাবেন এবং সংসারে আর কোনো অভাব থাকবে না। এখন টাকার বদলে সন্তানের নিথর দেহ ফিরে আসায় পরিবারটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মনিরুলের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো দাফতরিক বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাননি স্বজনেরা। নিহতের চাচা আলতাফ হোসেন জানান, গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে এই তরুণের মৃত্যু হলো, তা উদ্ঘাটনে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়া তরুণ মনিরুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসহায় পরিবারটির ঋণের বোঝা লাঘব এবং প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে দ্রুত সরকারি আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনেরা।











