নভেম্বর ৯, ২০২৬
#আমেরিকা

দুবাইয়ে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে নিভে গেল প্রবাসীর প্রাণ: জিরুইন গ্রামে শোকের মাতম

মরুভূমির তপ্ত বালু মাড়িয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন শাহ আলম ভূঁইয়া (৪৫)। কিন্তু এক লহমায় সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল বিদেশের মাটিতে। বুধবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ওপর থেকে পড়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ কেড়ে নিল এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাণ। আজ বৃহস্পতিবার তার নিজ গ্রাম কুমিল্লার জিরুইনে বইছে শোকের তপ্ত হাওয়া।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামটি সাধারণত শান্ত থাকলেও আজ সেখানে ভিন্ন চিত্র। গ্রামের সরু পথে পা রাখতেই কানে আসে স্বজন হারানোদের বুকফাটা আর্তনাদ। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকালে যখন শাহ আলম তার প্রাত্যহিক রুটিরুজির সন্ধানে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন আকাশ থেকে নেমে আসে যমদূত। হঠাৎ একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ তার ওপর আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে, তখন সেই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের বলি হতে হলো কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ একজন মানুষকে। শাহ আলমের এই আকস্মিক মৃত্যু কেবল একটি মানুষের প্রস্থান নয়, বরং একটি পরিবারের মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার গল্প।

শাহ আলমের সংসারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে চার সন্তান। দুই মেয়ে শারমিন ও মিম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে কয়েক বছর আগে। বড়দের দায়িত্ব শেষ করলেও ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তার। বড় ছেলে শাকিলের বয়স মাত্র ১২ বছর, সে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় পড়ছে। আর ছোট ছেলে মিনহাজ (৭) স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

বাবার মৃত্যুর খবর শোনামাত্রই পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে। অবুঝ মিনহাজ হয়তো এখনো বোঝেনি যে, বিদেশ থেকে চকলেট কিংবা খেলনা নিয়ে তার প্রিয় বাবা আর কখনোই ফিরবেন না। বড় ছেলে শাকিলের কাঁধে এখন অকালেই সংসারের পাহাড়সম দায়িত্ব এসে পড়ল। বাবার পাঠানো টাকায় যার পড়াশোনা চলত, তার শিক্ষাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

প্রবাসীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোনের আনাগোনা ও সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। শাহ আলমের মতো একজন নিরীহ মানুষ কেন ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের বলি হবেন, সেই প্রশ্ন এখন গ্রামজুড়ে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের দাবি, সরকার যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাহ আলমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। একইসঙ্গে দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় এই অসহায় পরিবারটির টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দুবাইয়ে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে নিভে গেল প্রবাসীর প্রাণ: জিরুইন গ্রামে শোকের মাতম

স্টেথোস্কোপ ছেড়ে ককপিট: একটি ভিডিও যেভাবে বদলে

দুবাইয়ে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে নিভে গেল প্রবাসীর প্রাণ: জিরুইন গ্রামে শোকের মাতম

নিথর দেহে ফিরলেন মামুন: গফরগাঁওয়ে চোখের জলে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *