নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর পরিবার #প্রিয় বাংলাদেশ #বিদেশে চাকরি #রেমিট্যান্স

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও আর্থিক সুবিধা: দালালমুক্ত অভিবাসন ও রেমিট্যান্স প্রণোদনার ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং রেমিট্যান্সের ওপর বিশেষ প্রণোদনা। বিএনপি সরকারের আমলে (বিশেষ করে ২০০১-২০০৬) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠনের পর প্রবাসীদের দালালের খপ্পর থেকে রক্ষা, কম সুদে ঋণ প্রদান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এসব উদ্যোগ পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে, যার মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্য

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন-২০১০ এর মাধ্যমে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ব্যাংকটির মূলধন ১০০ কোটি টাকা (পরে বৃদ্ধি পেয়েছে), যার ৯৫% আসে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফান্ড থেকে এবং ৫% সরকারি অবদান। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল:

  • বিদেশগামী কর্মীদের জামানতবিহীন বা সহজ শর্তে অভিবাসন ঋণ প্রদান (সাধারণত ৮-৯% সুদে, দ্রুত মঞ্জুরি ৩ দিনের মধ্যে)।
  • দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত খরচ এড়ানো এবং শোষণ রোধ।
  • প্রবাস ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন ঋণ (স্ব-কর্মসংস্থান, ব্যবসা বা বিনিয়োগের জন্য)।
  • রেমিট্যান্স প্রেরণে সহজ ও নিরাপদ চ্যানেল গড়ে তোলা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে লক্ষাধিক বিদেশগামী কর্মীকে এই ব্যাংক ঋণ দিয়েছে, যা প্রবাসীদের আর্থিক বোঝা কমিয়েছে এবং দালালচক্রের প্রভাব হ্রাস করেছে।

বিএনপি সরকারের আমলে শুরু হওয়া পরিকল্পনা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার (২০০১-২০০৬) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠনের পর প্রবাসীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়। এ সময়ে:

  • দালালমুক্ত অভিবাসন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
  • কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা (পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত)।
  • রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনা ও বিশেষ সুবিধার ভিত্তি স্থাপন।

এসব উদ্যোগ পরবর্তী সরকারগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। উদাহরণস্বরূপ, রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা (বর্তমানে ২.৫%) ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে চালু হলেও, বিএনপি আমলে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থকে উৎসাহিত করার নীতিগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে রেমিট্যান্স বৈধ চ্যানেলে বাড়তে থাকে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ শক্তিশালী হয়।

বর্তমান সুবিধা ও প্রভাব

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বর্তমানে অভিবাসন ঋণ, পুনর্বাসন ঋণ, সঞ্চয় স্কিম (ডাবল বেনিফিট, শিক্ষা সঞ্চয়ী), অনলাইন আবেদন ও কিস্তি পরিশোধের সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া রেমিট্যান্সে সরকারি প্রণোদনা (২.৫%) বৈধপথে অর্থ প্রেরণকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিএনপি সরকারের প্রবাসী-বান্ধব নীতির ধারাবাহিকতায় এসব সুবিধা গড়ে উঠেছে। ফলে প্রবাসী কর্মীরা নিরাপদে বিদেশ যেতে পারছেন, দালালের শোষণ কমেছে এবং রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও আর্থিক সুবিধা: দালালমুক্ত অভিবাসন ও রেমিট্যান্স প্রণোদনার ধারাবাহিকতা

রেসিডেন্ট কার্ড হাতে পেয়েও ফেরা হলো না

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *